‘এমন দৃশ্য নজিরবিহীন!’ চিনের পরমাণু ঘাঁটিতে নতুন লঞ্চ প্যাড, তাজ্জব বিশেষজ্ঞরা - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘এমন দৃশ্য নজিরবিহীন!’ চিনের পরমাণু ঘাঁটিতে নতুন লঞ্চ প্যাড, তাজ্জব বিশেষজ্ঞরা

Spread the love

বেজিং: চিনের পরমাণু শক্তিকে আরও সুরক্ষিত এবং কার্যকর করে তুলতে বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছে পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)। সাম্প্রতিক উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণে উত্তর-পশ্চিম চিনের জিনজিয়াং প্রদেশের হামি (Hami) পরমাণু সাইলো …

বেজিং: চিনের পরমাণু শক্তিকে আরও সুরক্ষিত এবং কার্যকর করে তুলতে বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছে পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)। সাম্প্রতিক উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণে উত্তর-পশ্চিম চিনের জিনজিয়াং প্রদেশের হামি (Hami) পরমাণু সাইলো অঞ্চলের কাছে এক বিস্তীর্ণ সামরিক অবকাঠামোর সন্ধান মিলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ‘ফার্স্ট স্ট্রাইক’ বা প্রথম দফার পরমাণু হামলার পরেও যাতে চিন পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা বজায় রাখতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই বিশাল প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে। (China Is Building Launch Pads Near Nuclear Missile Silos)

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কয়েক হাজার বর্গকিলোমিটার মরুভূমি জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে এই নতুন সামরিক নেটওয়ার্ক। সেখানে মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটের জন্য ৮০টিরও বেশি কংক্রিটের প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে উন্নত উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিট এবং একাধিক ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার-সমৃদ্ধ কমান্ড সেন্টার।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে এই প্রকল্পের কেন্দ্রে থাকা দুটি বিশাল অষ্টভুজাকৃতি স্থাপনা। গত ছয় বছরে ধাপে ধাপে তৈরি হওয়া এই কমপ্লেক্সগুলির ভিতরে রয়েছে সেনা আবাসন, ভারী সামরিক যানবাহনের গ্যারেজ এবং বিভিন্ন সহায়ক অবকাঠামো। চারপাশে গড়ে তোলা হয়েছে সাঁজোয়া বাঙ্কার, সুরক্ষিত অস্ত্রাগার, বিমানঘাঁটি এবং রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা, যা সরাসরি হামির পরমাণু সাইলোর সঙ্গে যুক্ত।

কার্নেগি এন্ডোমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের গবেষক টং ঝাওয়ের মতে, এই অষ্টভুজ কাঠামো এবং সেখানে স্থাপিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাওয়ারগুলি মূলত চিনের পরমাণু বাহিনীর ‘কমান্ড, কন্ট্রোল অ্যান্ড কমিউনিকেশন’ (C3) ব্যবস্থার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হবে।

দ্রুত বাড়ছে চিনের পরমাণু শক্তি

পেন্টাগনের সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, বিশ্বের অন্য যে কোনও দেশের তুলনায় সবচেয়ে দ্রুত হারে নিজেদের পরমাণু সক্ষমতা বাড়াচ্ছে চিন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের অনুমান, ২০৩০ সালের মধ্যে বেজিংয়ের হাতে প্রায় ১,০০০টি পরমাণু ওয়ারহেড থাকতে পারে।

শুধু তাই নয়, চিনের ‘হুওয়ান-১’ (Huoyan-1) উপগ্রহ-ভিত্তিক আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে। দাবি করা হচ্ছে, শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মাত্র ৯০ সেকেন্ডের মধ্যে সেটিকে শনাক্ত করে ৩ থেকে ৪ মিনিটের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কমান্ড সেন্টারে সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম এই প্রযুক্তি।

আন্তর্জাতিক মহলে বাড়ছে উদ্বেগ

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আমেরিকা ও রাশিয়া যেখানে মূলত সাইলো-ভিত্তিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে, সেখানে চিন ধাপে ধাপে একটি বহুমাত্রিক এবং সমন্বিত পরমাণু প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তুলছে। উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি, মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, শক্তিশালী যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং সুরক্ষিত কমান্ড কাঠামোর সমন্বয়ে গঠিত এই নতুন কৌশল ভবিষ্যতে বৈশ্বিক কৌশলগত ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

ভিডিও নিউজ দেখুন

https://www.youtube.com/watch?v=videoseries

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *