চালানে কারচুপি, পালাবদলের পরেও চলছে বালি–দুর্নীতি - 24 Ghanta Bangla News
Home

চালানে কারচুপি, পালাবদলের পরেও চলছে বালি–দুর্নীতি

Spread the love

এই সময়, পুরুলিয়া ও আসানসোল: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরেও বালিঘাটগুলির ছবি বদলায়নি বলে অভিযোগ তুলল আদিবাসী কুড়মি সমাজ। বালি নিয়ে দুর্নীতি ও পুলিশের হুমকির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার পুরুলিয়া–১ ব্লকের কাঁটাবেড়া বালিঘাটে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে সংগঠনটি। সেখানে ছিলেন মূল মানতা অজিত মাহাতো ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় যুব সভাপতি নৃপেণ মাহাতো।

অজিত মাহাতো ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘সরকার গঠনের পরে বিভিন্ন ঘাট থেকে বালি তোলা কিছুদিন বন্ধ ছিল। সবে কাঁটাবেড়া ঘাট থেকে বালি তোলা শুরু হয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বালি নিয়ে আগের সরকারের সময়ে সাধারণ মানুষের যে অভিযোগ ছিল সেই অব্যবস্থা জারি রয়েছে। কেউ এক ট্র্যাক্টর বালি কিনলে রয়ালটি হিসেবে তিন হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। অথচ তার বিনিময়ে যে চালান দেওয়া হচ্ছে তাতে কোনও টাকার অঙ্কের উল্লেখ থাকছে না। এটা কেন হবে, এই প্রশ্ন মানুষের দীর্ঘদিনের। মানুষ সেই প্রশ্ন তুলতেই পুলিশ পাল্টা তাঁদেরই ফোন করতে শুরু করেছে।’ তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন, ‘বালির মাফিয়ারাজ বন্ধের বিরুদ্ধেও কিন্তু মানুষ ভোট দিয়ে সরকার বদলেছেন। অবস্থার বদল না–হলে বালি নিয়ে জঙ্গলমহল জুড়েই আন্দোলন হবে।’

নৃপেণ মাহাতোর কথায়, ‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষাতেই জানিয়ে দিয়েছেন, এই অব্যবস্থা চলবে না। কাউকে পয়সা দিতে হবে না। তার পরেও কেন আগের অবস্থার বদল হবে না?’ আন্দোলনকারীদের কাছে পুলিশের ফোন আসার প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এই অব্যবস্থার বিরুদ্ধেই তো মানুষ আগের সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। তার পরেও সেই ছবি কেন থাকবে?’

সংগঠনের দাবি, নতুন সরকার বালি তোলা নিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি না–করা পর্যন্ত বালি তোলা বন্ধ রাখতে হবে, অথবা চালানে টাকার অঙ্ক স্পষ্ট লিখতে হবে। এই প্রসঙ্গে পুরুলিয়ার বিজেপি বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় জানান, বিষয়টি শুনেছি। গোটা বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

এ দিকে, মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের পরেও একই ভাবে অবৈধ বালি পাচার ও ওভারলোডিং বন্ধ হচ্ছে না পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে। বুধবার কল্যাণেশ্বরী–দেন্দুয়া রোড থেকে বৈধ চালানের আড়ালে অতিরিক্ত বালি পাচারের অভিযোগে একটি ডাম্পার বাজেয়াপ্ত এবং চালক রাম শঙ্কর যাদবকে গ্রেপ্তার করে সালানপুর থানার কল্যাণেশ্বরী ফাঁড়ির পুলিশ। বৃহস্পতিবার ধৃতকে আসানসোল আদালতে হাজির করানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাবনির দোমোহনি ঘাট থেকে কাটা ওই চালানে ২৫ টন বালির উল্লেখ থাকলেও, ওজনে ৩২ টন বালি মেলে। অর্থাৎ সাত টন বালি ওভারলোড ছিল। পাশাপাশি, ২৬ মে বেলা ১১টা ৫৬ মিনিটে চালানের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও ২৭ মে দুপুরে ওই ডাম্পারটি দিব্যি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। বৈধ কাগজ দেখাতে না–পারায় চালককে গ্রেপ্তাররে পাশাপাশি নেপথ্যে থাকা জনৈক ‘মনাদা’ নামের এক ব্যক্তির খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরেও এই জালিয়াতি চলায় প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *