পাতিদারের ঝড়ে গুজরাটকে উড়িয়ে ফাইনালে বিরাটদের বেঙ্গালুরু - 24 Ghanta Bangla News
Home

পাতিদারের ঝড়ে গুজরাটকে উড়িয়ে ফাইনালে বিরাটদের বেঙ্গালুরু

Spread the love

রজত পাতিদারের বিস্ফোরক ইনিংসে গুজরাটকে ৯২ রানে হারিয়ে আইপিএল ফাইনালে উঠল বেঙ্গালুরু। স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল বিরাটদের।

আইপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ারে যেন একেবারে ঝড় তুলে ফাইনালে পৌঁছে গেল বেঙ্গালুরু। বহু বছরের অপেক্ষার পর ট্রফির স্বপ্নকে আরও এক ধাপ কাছে নিয়ে এল বিরাট কোহলিদের দল। মঙ্গলবার গুজরাটের বিরুদ্ধে এমন এক দাপুটে পারফরম্যান্স করল বেঙ্গালুরু, যা আইপিএলের প্লে-অফ ইতিহাসে দীর্ঘদিন মনে রাখা হবে। আর এই জয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অধিনায়ক রজত পাতিদার। তাঁর ব্যাট থেকেই এল অবিশ্বাস্য এক ইনিংস, যা কার্যত ম্যাচের ভাগ্য লিখে দেয়।

টস জিতে প্রথমে বেঙ্গালুরুকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল গুজরাট। শুরুতে বিরাট কোহলি এবং ভেঙ্কটেশ আইয়ার সাবধানী ভঙ্গিতে ইনিংস গড়তে থাকেন। ভেঙ্কটেশ কিছু আকর্ষণীয় শট খেললেও বড় রান করতে পারেননি। তিনি উনিশ রান করে ফিরে যান। এরপর ক্রিজে নেমে বিরাট নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে ইনিংস সামলাতে থাকেন। একের পর এক নিখুঁত কভার ড্রাইভ ও পুল শটে গুজরাটের বোলারদের উপর চাপ বাড়াতে থাকেন তিনি। বিরাট তেতাল্লিশ রান করে আউট হলেও দলের ভিত মজবুত করে দিয়ে যান।

এরপরই শুরু হয় রজত পাতিদারের বিধ্বংসী ব্যাটিং। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন তিনি। গুজরাটের তারকা বোলারদের একেবারেই পাত্তা দেননি বেঙ্গালুরু অধিনায়ক। মাত্র তেত্রিশ বলে তিরানব্বই রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। পাঁচটি চার এবং ন’টি বিশাল ছক্কায় সাজানো ছিল তাঁর ইনিংস। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, তাঁর প্রতিটি শট ছিল নিখুঁত ক্রিকেটীয় কৌশলে ভরা। শক্তির বদলে টাইমিং এবং ব্যাটের স্কিল দিয়েই রশিদ খান, কাগিসো রাবাডাদের মতো বিশ্বমানের বোলারদের বাউন্ডারির বাইরে পাঠান তিনি।

পাতিদারের সঙ্গে ক্রুণাল পাণ্ডিয়া এবং দেবদত্ত পারিক্কলও গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করেন। ক্রুণাল করেন তেতাল্লিশ রান এবং পারিক্কল দ্রুত তিরিশ রান তুলে দেন। ফলে নির্ধারিত কুড়ি ওভারে বেঙ্গালুরু তুলে ফেলে দুইশো তিপ্পান্ন রান। আইপিএলের প্লে-অফে এত বড় রান আগে কখনও ওঠেনি। আগের সর্বোচ্চ ছিল গুজরাটের করা দুইশো তেত্রিশ।

গুজরাটের বোলারদের অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ। মহম্মদ সিরাজ নিজের পুরনো দলের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে তিন ওভারে ছেচল্লিশ রান দেন। রাবাডা চার ওভারে চুয়ান্ন রান দিয়ে মাত্র একটি উইকেট পান। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণও মার খেয়ে চার ওভারে তিপ্পান্ন রান দেন।

দুইশো চুয়ান্ন রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় গুজরাট। ওপেনার শুভমন গিল মাত্র দুই রান করে ফিরে যান। সাই সুদর্শনও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। জস বাটলার কিছুটা লড়াই করলেও রান তোলার গতি বজায় রাখতে ব্যর্থ হন। মাত্র একান্ন রানের মধ্যেই গুজরাটের পাঁচ ব্যাটার প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলে ম্যাচ প্রায় সেখানেই শেষ হয়ে যায়।

শেষদিকে রাহুল তেওয়াটিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তিনি আটষট্টি রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচ অনেক দূরে বেরিয়ে গিয়েছে। অন্য প্রান্ত থেকে কেউ তাঁকে সঙ্গ দিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত গুজরাটের ইনিংস শেষ হয় একশো বাষট্টি রানে।

বেঙ্গালুরু বিরানব্বই রানের বিশাল জয় তুলে নিয়ে সরাসরি ফাইনালে পৌঁছে গেল। বহু প্রতীক্ষিত ট্রফির স্বপ্ন এখন আরও উজ্জ্বল বিরাট কোহলিদের কাছে। অন্যদিকে গুজরাটের সামনে এখনও সুযোগ থাকলেও, এই ম্যাচে তাদের ব্যাটিং ভরাডুবি নতুন করে চিন্তা বাড়িয়ে দিল।

ভিডিও নিউজ দেখুন

https://www.youtube.com/watch?v=videoseries

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *