নামতে নামতে ফলতায় ৪ নম্বরে তৃণমূল - 24 Ghanta Bangla News
Home

নামতে নামতে ফলতায় ৪ নম্বরে তৃণমূল

Spread the love

trinamool-fourth-position-falta-by-election

ফলতা: ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে। (Trinamool)আর এই গণনায় চমকপ্রদ ফলাফল সামনে আসছে। একসময়ের তৃণমূলের দুর্গ বলে পরিচিত ফলতায় তৃণমূল কংগ্রেস এখন চতুর্থ স্থানে নেমে গেছে। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান সবার পিছনে। এই খবর শুধু ফলতার জন্য নয়, পুরো ডায়মন্ড হারবার অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণকেই নাড়িয়ে দিয়েছে।

– Advertisement –

যে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে ২০২৪ সালের নির্বাচনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পেয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন, সেই একই এলাকার অন্তর্গত ফলতায় এখন তৃণমূলের এমন করুণ অবস্থা দেখে অনেকেই অবাক হচ্ছেন। গণনার প্রাথমিক রাউন্ডগুলিতে জাহাঙ্গীর খান মাত্র কয়েক হাজার ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। একদিকে বিজেপি ২০ হাজার ভোটের লিড নিয়ে এগোচ্ছে, অন্যদিকে সিপিএম প্রার্থী দ্বিতীয় স্থানে থাকায় তৃণমূলের অবস্থান আরও শোচনীয়।

আরও দেখুনঃ ফলতায় ২০ হাজারের লিডে বিজেপির দেবাংশু! এলাকা জুড়ে উড়ছে গেরুয়া আবির

স্থানীয় মানুষের মধ্যে আলোচনা চলছে যে, দীর্ঘদিনের ভয়ের রাজনীতি এবার সত্যিই ভাঙছে।ফলতার এই পুনর্নির্বাচন নিয়ে আগে থেকেই উত্তেজনা ছিল। এপ্রিলের ২৯ তারিখের ভোটে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ইভিএম-এ সুগন্ধি স্প্রে, কালো টেপ লাগানো, বুথ ক্যাপচারিংসহ নানা অভিযোগে নির্বাচন কমিশন পুরো কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়।

২৮৫টি বুথে উচ্চ নিরাপত্তায় ভোট হয় ২১ মে। ভোটারদের উপস্থিতি ছিল প্রায় ৮৭ শতাংশ। অনেকেই বলছেন, এবারের ভোট ছিল সত্যিকারের শান্তিপূর্ণ এবং নিরপেক্ষ। যেখানে আগে ভয়ে মানুষ বুথে যেতে পারতেন না, সেখানে এবার খোলা মনে ভোট দিতে পেরেছেন সাধারণ মানুষ।এই পুনর্নির্বাচনের আগে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নিজেই প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা করেন। ‘আমি পুষ্পা’ মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার পর তাঁর অবস্থান আরও দুর্বল হয়।

যদিও নাম ইভিএম-এ ছিল, তবু তাঁর ভোটের অবস্থা দেখে স্পষ্ট যে, ফলতার মানুষ এবার পরিবর্তন চেয়েছেন। এদিকে, রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে আরেকটি বড় প্রশ্ন উঠেছে। খবর সামনে এসেছে যে, ২০২১ বিধানসভা এবং ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে ব্যবহৃত সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশের কোনো রেকর্ডিংই ছিল না। আরও ৩০ শতাংশ ক্যামেরায় শুধু ভোটের শুরু এবং শেষের কিছুক্ষণের ফুটেজ পাওয়া গেছে, মাঝের সময়টা সম্পূর্ণ ফাঁকা।

নির্বাচন কমিশন এই অনিয়মের কারণে ওই ক্যামেরা সরবরাহকারী সংস্থার চুক্তি বাতিল করেছে। এই তথ্য ফলতার ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে অনেক প্রশ্ন উঠছে। ফলতায় যে অনিয়মের অভিযোগে পুনর্নির্বাচন হলো, তার পিছনে পুরনো নজিরও কাজ করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *