জম্মু-কাশ্মীরে বিনিয়োগের ‘বিস্ফোরণ’, হাজার কোটি টাকার শিল্প প্রকল্পে বদলাচ্ছে অর্থনীতি
২০২১ সালের পর থেকে জম্মু ও কাশ্মীরে শিল্পে বিনিয়োগে বড় উত্থান দেখা গিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মোট ৫,৮২৪ কোটি টাকার বিনিয়োগ এসেছে। ২০২১ সালের আগে যে পরিমাণ গড় বার্ষিক বিনিয়োগ হতো, তার তুলনায় এই অঙ্ক প্রায় ১৩ গুণ বেশি।
কেন্দ্রের ২৮,৪০০ কোটি টাকার বিশেষ শিল্প প্রকল্পের ফলেই এই বিনিয়োগ বৃদ্ধি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এই প্রকল্পে বরাদ্দের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে।
প্রথম বার জম্মু ও কাশ্মীরে ৫০০ কোটির বেশি মূল্যের একাধিক শিল্প ইউনিট তৈরি হয়েছে। সরকারি পর্যালোচনা রিপোর্ট অনুযায়ী, চিরিপাল পলিফিল্মসের ১,২১৫ কোটি টাকার প্রকল্প, কান্ধারি বেভারেজ়েসের ৮৩০ কোটি টাকার প্রকল্প এবং এজিয়সের ৬৬৬ কোটি টাকার ইউনিটে ইতিমধ্যেই উৎপাদন শুরু হয়েছে।
এ ছাড়া জুপিটার অ্যালুমিনিয়ামের ১,১৭৭ কোটি টাকা, ধুনসেরি পলিফিল্মসের ১,০৬৯ কোটি টাকা এবং অর্কিড বায়ো-ফার্মার ৫৪৮ কোটি টাকার প্রকল্পে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা।
নিউ সেন্ট্রাল সেক্টর স্কিম (New Central Sector Scheme)-এর অধীনে মোট ৪৪০টি ইউনিট নথিভুক্ত হয়েছিল। তার মধ্যে ৩৯০টি ইউনিটে ইতিমধ্যেই উৎপাদন শুরু হয়েছে। ৩১২টি ইউনিটে ৭,৮৬৪ কোটি টাকার বিনিয়োগে ৫০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। চলতি অর্থবর্ষেই সেখানে উৎপাদন শুরু হতে পারে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে জম্মু-কাশ্মীরে ৪,১৪৫ কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছিল। ২০২৩-২৪ সালে হয়েছিল ৩,৩৮৯ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ সালে সেই অঙ্ক ছিল ২,১৫৩ কোটি টাকা।
শুধু শিল্প নয়, স্টার্টআপ ক্ষেত্রেও দ্রুত বৃদ্ধি হয়েছে। ২০২০ সালে যেখানে স্টার্টআপের সংখ্যা ছিল মাত্র ৬৯, সেখানে ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১,৩০৫। এর মধ্যে শুধু ২০২৫-২৬ সালেই ৮১৬টি নতুন স্টার্টআপ নথিভুক্ত হয়েছে।
ক্ষুদ্র, ছোট এবং মাঝারি শিল্প বা MSME ক্ষেত্রেও বড় বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যা ২০২১ সালে প্রায় ২৪ হাজার ছিল। ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে প্রায় ৬ লক্ষ ৩৫ হাজারে পৌঁছেছে। সমবায় সমিতির সংখ্যাও ২০২০ সালের ৩০০ থেকে বেড়ে ৭,৩০০ ছাড়িয়েছে।