যৌনকর্মী’র সঙ্গে বৌমার তুলনা! কড়া পদক্ষেপের ভাবনা NCW-র, জামিন বাতিল হতে পারে ত্বিষার শাশুড়ির - 24 Ghanta Bangla News
Home

যৌনকর্মী’র সঙ্গে বৌমার তুলনা! কড়া পদক্ষেপের ভাবনা NCW-র, জামিন বাতিল হতে পারে ত্বিষার শাশুড়ির

Spread the love

প্রাক্তন মিস পুনে ত্বিষা শর্মার রহস্যমৃত্যুতে বিতর্ক আরও বেড়েই চলেছে। এ বার বড় আইনি চাপে পড়তে চলেছেন তাঁর শাশুড়ি তথা অবসরপ্রাপ্ত জেলা বিচারক গিরিবালা সিং। ত্বিষার পরিবারের তরফে জবলপুর হাইকোর্টে গিরিবালার অগ্রিম জামিন বাতিলের আবেদন জানানো হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগ, যে ধরনের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে, সেখানে তাঁকে অগ্রিম জামিন দেওয়া আইনসম্মত হয়নি। একইসঙ্গে মৃত ত্বিষাকে নিয়ে তাঁর অপমানজনক মন্তব্যের জেরে ক্ষুব্ধ জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW)-ও। NCW স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনও অভিযোগের তদন্ত আদালত ও তদন্তকারী সংস্থার কাজ। কিন্তু মৃত মহিলার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে ধারাবাহিক মন্তব্য করা সমাজে ভুল বার্তা দেয়। এই জোড়া সাঁড়াশি আক্রমণে বেকায়দায় গিরিবালা সিং।

ত্বিষার পরিবারের আইনজীবী অঙ্কুর পাণ্ডে দাবি করেছেন, গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির পাশাপাশি পণপ্রথা ও গৃহ নির্যাতন সংক্রান্ত গুরুতর ধারায় মামলা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের মামলায় অগ্রিম জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতের আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। আইনজীবীর দাবি, ‘আইনের প্রতিষ্ঠিত নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে’ গিরিবালাকে জামিন দেওয়া হয়েছে এবং সেই কারণেই হাইকোর্টে জামিন বাতিলের আবেদন করা হচ্ছে।

এই মামলায় ভোপালের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক পল্লবী দ্বিবেদী ১৫ মে গিরিবালা সিংহকে অগ্রিম জামিন দেন। একইসঙ্গে ত্বিষার স্বামী সমর্থ সিংহের অগ্রিম জামিনের আবেদন খারিজ করা হয়। আদালত মনে করে, সমর্থের বিরুদ্ধে সরাসরি নির্যাতনের অভিযোগ বেশি গুরুতর। বর্তমানে সমর্থ পলাতক এবং তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি হয়েছে।

ত্বিষার পরিবারের অভিযোগ, গিরিবালা সিং তাঁর বিচারক পরিচিতি এবং প্রভাব খাটিয়ে তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। পরিবারের দাবি, ত্বিষার মৃত্যুর পরপরই তিনি বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ফোন করেছিলেন। কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, তিনি ৪০টিরও বেশি ফোন কল করেছিলেন বিভিন্ন বিচারক, আইপিএস অফিসার এবং পরিচিত মহলে। যদিও এই অভিযোগ সম্পর্কে কোনও তথ্য পুলিশের তরফে মেলেনি। তবুও পরিবার এই বিষয়টিকে জামিন বাতিলের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।

এ ছাড়াও মৃতা তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, গিরিবালা তদন্তে পুরোপুরি সহযোগিতা করছেন না। পুলিশ ইতিমধ্যেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একাধিক নোটিস পাঠিয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁকে ‘ফাইনাল নোটিস’ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারী বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) চায়, গিরিবালা সরাসরি হাজির হয়ে নিজের বয়ান রেকর্ড করান।

অন্যদিকে, গিরিবালা সিংহ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ত্বিষার পরিবার তাঁদের বিরুদ্ধে ‘প্রতিহিংসামূলক প্রচার’ চালাচ্ছে এবং উদ্দেশ্য একটাই—তাঁর ছেলে সমর্থকে জেলে পাঠানো ও তাঁর জামিন বাতিল করানো।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘ওরা চায় আমাদের সবকিছু নষ্ট হয়ে যাক। ত্বিষা মানসিক সমস্যায় ভুগছিল এবং তাঁর চিকিৎসাও চলছিল। ও সন্তানও রাখতে চাইছিল না।’ এ ছাড়া ত্বিষার ভাই ও গিরিবালা সিংয়ের কথোপকথনের যে ক্লিপ প্রকাশ্যে এসেছে তাতেও মৃত তরুণী অবমাননাকর মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারককে।

সেই কথোপকথনে ত্বিষার পুরোনো প্রেম, যৌনতা নিয়ে আপত্তিকর প্রশ্ন করাকে নিজের অধিকার বলে দাবি করেছেন গিরিবালা! বিয়ের আগে অন্য পুরুষদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল কি না, এই প্রশ্ন ত্বিষাকে করেছিলেন শাশুড়ি। হর্ষিত তা নিয়ে আপত্তি তুললে গিরিবালাকে বলতে শোনা যায়, ‘অবাধ যৌনতা একটা অভ্যেসের মতো। আমি গোয়ালিয়রের রেশমপুরায় কাজ করার সময়ে যৌনকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছি। ওরাও শরীর বেচে, তেমনই বেশ কিছু মানুষ সমাজের উঁচু জায়গায় পৌঁছতে নিজেদের শরীর বেচে।’ তবে এই অডিয়োর সত্যতা খতিয়ে দেখেনি এই সময় অনলাইন।

এই ধরনের মন্তব্য নিয়েই ক্ষুব্ধ জাতীয় মহিলা কমিশন। NCW চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকার (Vijaya Rahatkar) বলেন, ‘কোনও মহিলার মৃত্যুর পর তাঁর চরিত্রহনন অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও হৃদয়বিদারক। তদন্ত চলাকালীন এ ধরনের মন্তব্য শুধু মৃতার মর্যাদাকেই আঘাত করে না, তাঁর পরিবারের মানসিক অবস্থাকেও আরও বিপর্যস্ত করে তোলে।’

এদিকে মামলার চাপে গিরিবালার সরকারি পদও এখন প্রশ্নের মুখে। তিনি বর্তমানে ভোপাল জেলা কনজিউমার কমিশনের সভাপতি। মধ্যপ্রদেশ সরকার খতিয়ে দেখছে, এত গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তি ওই পদে থাকতে পারেন কি না। সূত্রের খবর, আইনি মতামত নেওয়া শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তাঁকে পদ থেকে সরানোর প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *