দিমিত্রিদের টোটকা, ‘নাথিং ইজ ইমপসিবল’
পার্থ দত্ত
সেটা ছিল দুই ভটচাজের লড়াই। আর এ বার লড়াইটা দুই স্প্যানিশ কোচের। ব্যবধানটা ঠিক ২৫ বছরের। ২০০০–২০০১ মরশুমে ইস্টবেঙ্গল প্রথম জাতীয় লিগ জেতার সময় যেমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, কাকতালীয়ভাবে প্রায় একই রকম অবস্থা চলতি মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের প্রথম আইএসএল জয়ের হাতছানিতেও।
ইস্টবেঙ্গল যখন প্রথম ন্যাশনাল লিগ জেতে, তার আগে মোহনবাগানের দু’বার এই ট্রফি পেয়ে গিয়েছিল। আর মোহনবাগান এখন দু’বার আইএসএল পেলেও ইস্টবেঙ্গলের ক্যাবিনেটে নেই এই ট্রফি। ফলে সে বারের মতো এ বারও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খিদে অনেক বেশি লেসলি ক্লডিয়াস সরণির ক্লাবের।
সে বার ন্যাশনাল লিগের ফয়সালা হয়েছিল এ বারের মতোই একই দিনে শেষ রাউন্ডে। অ্যাডভান্টেজ ছিল মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যের ইস্টবেঙ্গলের। অঙ্ক ছিল, তিরুবনন্তপুরমের মাঠে এসবিটিকে হারালেই চ্যাম্পিয়ন লাল হলুদ। আর বেঙ্গালুরুর মাঠে আইটিআইকে হারালেও ইস্টবেঙ্গলের পয়েন্ট নষ্টের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়েছিল সুব্রত ভট্টাচার্যের মোহনবাগানকে। সবুজ মেরুন শেষ ম্যাচে জয় পেলেও (২২ ম্যাচে ৪৫ পয়েন্ট) ওমোলোজার জোড়া গোলে এসবিটিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ইস্টবেঙ্গলই (২২ ম্যাচে ৪৬)। তার পরে আরও দু’বার ইস্টবেঙ্গল ভারতসেরা হয় ২০০২–০৩ ও ২০০৩–০৪ মরশুমে সুভাষ ভৌমিকের কোচিংয়ে।
তার পরে গঙ্গা আর টেমস দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। আশ্চর্যের কথা, ২০০৩–০৪ মরশুমে লন্ডনের ক্লাব আর্সেনাল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের খেতাব জিতেছিল শেষ বার। তার পরে ‘দ্য গানার্স’ ইংল্যান্ডের এক নম্বর লিগ জিতল এ বার। বৃহস্পতিবার রাতে কি কাটবে মশাল বাহিনীর ২২ বছরের খরা?
বুধবার বিকেলে যুবভারতীতে পাশাপাশি দুই মাঠে প্র্যাক্টিস সারল দুই প্রধান। ২৫ বছর আগে এমন পরিস্থিতিতে যখন শেষ প্র্যাক্টিস সেরেছিলেন মনোরঞ্জন ও সুব্রত, তখন আবেগের বিস্ফোরণ ঘটেছিল ময়দানে। জনজোয়ার বয়ে গিয়েছিল প্র্যাক্টিসে। যুবভারতীতে সদস্য–সমর্থকদের ঢোকার অধিকার নেই। হাতে গোনা কয়েকজন ভক্ত হাজির ছিলেন রশিদ–ম্যাকলারেনদের উৎসাহ দিতে। আবেগ যত সোশ্যাল মিডিয়াতেই। অস্কার ব্রুজ়োর টিম যদি চ্যাম্পিয়নও হয়, কিশোরভারতীতে ৮ হাজারের বেশি দর্শক তার সাক্ষী থাকতে পারবেন না। ম্যাচ আয়োজক ইন্টার কাশী টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া রাখলেও, সব টিকিটই শেষ হয়ে গিয়েছে।
মোহনবাগানকে শেষ ম্যাচে শুধু দিল্লিকে হারালেই হবে না, গোলের বন্যাও বইয়ে দিতে হবে। সেটা কী সম্ভব? প্রেস মিটে পাশে দিমিত্রিকে বসিয়ে মোহনবাগানের স্প্যানিশ কোচ সের্খিও লোবেরার মন্তব্য, ‘ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু হয় না। আগের ম্যাচগুলোতে কী হয়েছে, তা মাথায় রাখছি না। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যেই আমরা এই ম্যাচে খুব পজি়টিভ মানসিকতা নিয়ে নামছি।’ এই ম্যাচে বেশি গোলের লক্ষ্যে শুরু থেকে চার বিদেশি ফরোয়ার্ড রবসন, দিমিত্রি, কামিংস ও ম্যাকলারেনকে নামিয়ে দিতে পারেন, এমন ইঙ্গিতও তিনি দেন। চোটের জন্য আপুইয়া আর কার্ডের জন্য নেই আলবার্তো।
চার বছর মোহনবাগানে খেলা দিমিত্রির এটাই কি এই ক্লাবে শেষ ম্যাচ? মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় দিমি নিজেই লিখেছিলেন, ‘দ্য লাস্ট ডান্স।’ কী বোঝাতে চেয়েছেন তিনি? অজ়ি ফরোয়ার্ডের জবাব, ‘আনন্দ নিয়েই লিগের শেষ ম্যাচে মাঠ ছাড়তে চাই।’
২৫ বছর আগে ব্যারেটো, বাসুদেব মন্ডলরা শেষ ম্যাচে জিতেও আনন্দ করতে পারেননি। এ বার দিমি–শুভাশিসরা পারবেন আনন্দে ভাসতে?
ভারতসেরা কে? অপেক্ষার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে।