৭৫ মুসলিম ওবিসি শ্রেণী বাতিল! ৬৬ নতুন হিন্দু অনগ্রসর শ্রেণী ঘোষণা করল বাংলার গেরুয়া সরকার
কলকাতা: বড় পদক্ষেপ বাংলার নতুন বিজেপি সরকারের। (OBC Reservation)বিশাল পদক্ষেপ নিয়ে রাজ্যের সংরক্ষণ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে তারা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের দায়ের করা একটি মামলা …
কলকাতা: বড় পদক্ষেপ বাংলার নতুন বিজেপি সরকারের। (OBC Reservation)বিশাল পদক্ষেপ নিয়ে রাজ্যের সংরক্ষণ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে তারা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের দায়ের করা একটি মামলা সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রত্যাহার করে নিয়ে ৬৬টি নতুন অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) বিজ্ঞপ্তি করেছে বাংলার ডবল ইঞ্জিন। এই নতুন তালিকায় ৬২টি হিন্দু সম্প্রদায় এবং মাত্র ৪টি মুসলিম সম্প্রদায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক আলোচনার ঝড় তুলেছে।সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, নতুন করে ওবিসি মর্যাদা পাওয়া এই ৬৬টি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সম্প্রদায়গুলো দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে থাকা বলে চিহ্নিত হয়েছে। সরকারের তরফে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত সমাজের সত্যিকারের পিছিয়ে পড়া অংশকে সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে দায়ের করা সুপ্রিম কোর্টের মামলা প্রত্যাহার করে নতুন করে তালিকা তৈরি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আরও দেখুনঃ জিহাদিরা দখল করছে মন্দির শ্মশানের জমি! হিন্দুদের উদ্বেগ বাড়ছে চট্টগ্রামে
প্রসঙ্গত, ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ৭৭টি সম্প্রদায়কে ওবিসি মর্যাদা দিয়েছিল, যার মধ্যে ৭৫টিই ছিল মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত। এই বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। অনেকে অভিযোগ করেছিলেন যে, সেসময় ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যা সংবিধানের মূল স্পিরিটের পরিপন্থী। নতুন সরকারের এই পদক্ষেপকে তাই ‘দীর্ঘদিনের বৈষম্যের সংশোধন’ হিসেবে দেখছে বিজেপি ও তার সমর্থকরা।
বিজেপি নেতারা বলছেন, “আমরা ধর্মের ভিত্তিতে নয়, সামাজিক ও শিক্ষাগত পশ্চাৎপদতার ভিত্তিতে সংরক্ষণ দিতে চাই। পূর্ববর্তী সরকার রাজনৈতিক স্বার্থে মুসলিম তোষণ করেছে, আমরা সেই ভুল পথ থেকে সরে এসেছি।” অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা এই সিদ্ধান্তকে ‘সংখ্যালঘু বিরোধী’ বলে আক্রমণ করেছেন। তাঁরা দাবি করছেন, এতে মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে এবং সরকার সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টি করছে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেক হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হিন্দু জাতি-উপজাতি সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। অনেকেই বলেছেন তৃণমূল সরকার তোষণের রাজনীতি করতে গিয়ে বেআইনি ভাবে মুসলিম সম্প্রদায়কে ওবিসি সংসাপত্রের সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে। সেই সময় এই ইস্যু নিয়ে সুপ্রিমকোর্টে মামলা হয় এবং যার ফলে পিছিয়ে যায় জয়েন্ট এন্ট্রান্সের রেসাল্ট।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ নতুন সরকারের ‘সামাজিক ন্যায়’ এজেন্ডার অংশ। তবে এর ফলে সংরক্ষণের মোট শতাংশ বৃদ্ধি পেলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে ওবিসি সংরক্ষণ ৫০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। তাই নতুন তালিকা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের বিভিন্ন হিন্দু সম্প্রদায় যেমন কৈবর্ত, তেলি, কামার, কুমার, মালাকারসহ আরও অনেকে সরকারি চাকরি, শিক্ষা ও অন্যান্য সুবিধায় অগ্রাধিকার পাবেন। অন্যদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে যে চারটি সম্প্রদায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তাদেরও সুবিধা মিলবে। কিন্তু সংখ্যায় কম হওয়ায় বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে।