পরিবর্তন নাকি প্রত্যাবর্তন ? কোন পথে লাল হলুদ কোচের ভাগ্য ?
কলকাতা: ইস্টবেঙ্গলের ভবিষ্যৎ কোচ কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা ক্রমশই বাড়ছে। কয়েকদিন আগেও মনে হয়েছিল, মরশুম শেষ হলেই লাল-হলুদের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করতে চলেছেন অস্কার ব্রুজো। কিন্তু পরিস্থিতি …
কলকাতা: ইস্টবেঙ্গলের ভবিষ্যৎ কোচ কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা ক্রমশই বাড়ছে। কয়েকদিন আগেও মনে হয়েছিল, মরশুম শেষ হলেই লাল-হলুদের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করতে চলেছেন অস্কার ব্রুজো। কিন্তু পরিস্থিতি এখন অনেকটাই বদলেছে। ক্লাবের অনুরোধ, সমর্থকদের আবেগ এবং দলের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক স্প্যানিশ কোচের সিদ্ধান্তে নতুন করে ভাবনার জায়গা তৈরি করেছে। ফলে এখন আর নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না যে আগামী মরশুমে তাঁকে ইস্টবেঙ্গলের ডাগআউটে দেখা যাবে না। (Oscar Bruzo East Bengal Stay or Exit Next Season)
মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে সাংবাদিক বৈঠকে অস্কার স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, আগামী মরশুমে তিনি আর ইস্টবেঙ্গলের কোচ থাকবেন না। কারণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেছিলেন অনিশ্চয়তার কথা। আগামী মরশুমে প্রতিযোগিতা কবে শুরু হবে, কীভাবে দল গঠন হবে, ক্লাবের পরিকল্পনা কী—এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় তিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিত হতে পারছিলেন না। সেই সময় থেকেই ধরে নেওয়া হয়েছিল, মরশুম শেষে তিনি অন্য কোনও ক্লাবের দায়িত্ব নিতে পারেন।
এরই মধ্যে বিদেশ এবং দেশের একাধিক ক্লাব থেকে তাঁর কাছে প্রস্তাব আসে। সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড এবং গোয়ার একটি ক্লাব তাঁকে নিয়ে আগ্রহ দেখায়। প্রথমদিকে সেই প্রস্তাবগুলি গুরুত্ব দিয়েই দেখছিলেন অস্কার। কিন্তু পরবর্তীতে ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের অবস্থান অনেকটাই বদলে দেয় পরিস্থিতি। ক্লাবের কার্যকরী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, অস্কারকে আগামী মরশুমেও রেখে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। সেই বার্তাই পৌঁছে দেওয়া হয় কোচ এবং বিনিয়োগকারী সংস্থার কাছে।
শুধু ক্লাব নয়, সমর্থকদের আবেগও বড় ভূমিকা নিয়েছে। গত কয়েক মাসে দলের সঙ্গে অস্কারের সম্পর্ক অনেকটাই গভীর হয়েছে। সমর্থকদের কাছ থেকেও তিনি বিপুল সমর্থন এবং ভালোবাসা পেয়েছেন। সেই আবেগ স্পর্শ করেছে তাঁকেও। ফলে এখন তিনি তড়িঘড়ি কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন না। আপাতত ঠিক করেছেন, মে মাসের শেষ পর্যন্ত অন্য কোনও ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনা করবেন না। কারণ ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে তাঁর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে একত্রিশে মে। তারপর জুন মাসে পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।
তবে এই মুহূর্তে অস্কারের সম্পূর্ণ মনোযোগ রয়েছে একটি জায়গাতেই—ইন্ডিয়ান সুপার লিগ জেতা। ইতিহাসে প্রথমবার এই ট্রফি জয়ের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। তাই ভবিষ্যতের আলোচনা আপাতত সরিয়ে রেখে দলের প্রস্তুতিতেই মন দিয়েছেন কোচ। তাঁর বিশ্বাস, এই ট্রফি জিততে পারলে ক্লাব, সমর্থক এবং কোচ—সব পক্ষের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।
যদিও সমস্যা রয়েছে অন্য জায়গায়। আগামী মরশুমের প্রতিযোগিতা কবে শুরু হবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। দেশের প্রায় সব ক্লাবই এই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। ফলে ইস্টবেঙ্গল কর্তারা অস্কারকে রাখতে চাইলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু করতে পারছেন না। তাই দুই পক্ষের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও ভবিষ্যৎ এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।
এদিকে ফাইনালের প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে একাধিক ফুটবলারকে না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চোট এবং কার্ড সমস্যার কারণে দলের চিন্তা বেড়েছে। বিশেষ করে এডমুন্ডকে ঘিরে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন অস্কার। পরিবর্ত হিসেবে নেমে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। তাই কার্ড সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের জন্য আবারও আবেদন জানাতে পারে ক্লাব।
চোট কাটিয়ে বিপিন প্রস্তুত হলেও শুরু থেকেই তাঁকে নামানো হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। পরিবর্তে নন্দকে প্রথম একাদশে রাখার সম্ভাবনাই বেশি। তবে সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গা মাঠ। শেষ ম্যাচ হওয়ার কথা কিশোরভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। মাঠের অবস্থা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ রয়েছে ক্লাব এবং কোচিং শিবিরে। তাই ম্যাচের আগে মাঠ পরিদর্শনে যাবেন কর্তারা। প্রয়োজনে অস্কারকেও সেখানে নিয়ে যাওয়া হতে পারে।
সব মিলিয়ে ইস্টবেঙ্গলে এখন একসঙ্গে চলছে দু’টি লড়াই—একদিকে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন, অন্যদিকে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা। আর সেই ভবিষ্যতের কেন্দ্রে রয়েছেন অস্কার ব্রুজো।