আরজি করের ঘটনাস্থল নতুন করে সিল করার নির্দেশ হাইকোর্টের
রাজ্যজুড়ে আলোড়ন তোলা আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের মামলায় ফের উল্লেখযোগ্য মোড় (RG Kar Case)। বিজেপি সাংসদ ও প্রাক্তন হাইকোর্ট বিচারপতি অভিজিৎ …
রাজ্যজুড়ে আলোড়ন তোলা আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের মামলায় ফের উল্লেখযোগ্য মোড় (RG Kar Case)। বিজেপি সাংসদ ও প্রাক্তন হাইকোর্ট বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি ‘বন্ধ ঘর’ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর, ১৯ মে ২০২৬ কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার শুনানিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে ঘটনাস্থল নতুন করে দ্রুত সিল করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দিয়ে তদন্তের স্বচ্ছতা ও গুরুত্ব নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলেছে।২০২৪ সালের আগস্টে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনার পর থেকেই মামলাটি একাধিকবার আদালতের দরজায় এসেছে। নির্যাতিতার পরিবার, চিকিৎসক সমাজ এবং সাধারণ মানুষের দাবি ছিল পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক, কোনো প্রমাণ যেন লোপাট না হয়। সেই আবহে সম্প্রতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে একটি ঘর এখনও তালাবন্ধ ও সিল করা অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন।
আরও দেখুনঃ ভোটের আগেই মাঠ ছাড়লেন ‘পুষ্পা’! ফলতায় লড়াই থেকে পিছু হটলেন জাহাঙ্গীর
তিনি অভিযোগ করেন যে, সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারিক সীমা পাহুয়ার নেতৃত্বে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উপেক্ষিত হয়েছে বা চেপে যাওয়া হয়েছে। একটি ভিডিও ডিলিট করার নির্দেশ, সিঁড়ি এবং অন্যান্য এলাকা যথাযথভাবে পরীক্ষা না করার মতো অভিযোগও উঠেছে। তাঁর এই সফর এবং প্রকাশ্য মন্তব্যের পরই মামলায় নতুন করে আলোড়ন শুরু হয়।১৯ মে-র শুনানিতে বিচারপতি শম্পা সরকার ও তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চ সিবিআইয়ের উপস্থিত আইনজীবীদের কাছে কঠোর প্রশ্ন করেন।
আদালত জানতে চেয়েছে, ঘটনাস্থলের যথাযথ সুরক্ষা কেন বজায় রাখা হয়নি এবং কেন এখনও কিছু এলাকা অসুরক্ষিত রয়েছে। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল এই ধরনের স্পর্শকাতর মামলায় প্রমাণ সংরক্ষণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই অবিলম্বে ঘটনাস্থল পুনরায় সিল করতে হবে এবং সেই প্রক্রিয়া যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত আরও জানিয়েছে, তদন্তের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছ হতে হবে এবং কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি মেনে নেওয়া হবে না।
এই আদেশের পর আইনজীবী মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এই নির্দেশ তদন্তকে নতুন করে গতি দেবে এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা অস্বচ্ছতার অভিযোগ কিছুটা হলেও দূর করবে। নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী জানিয়েছেন, আদালতের এই সক্রিয় ভূমিকা তাঁদের আস্থা বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, সিবিআই সূত্রে জানানো হয়েছে যে, তারা আদালতের নির্দেশ মেনে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
উল্লেখ্য, আরজি কর কাণ্ডের পর রাজ্যজুড়ে চিকিৎসকদের আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতীয় স্তরের প্রতিবাদ হয়েছিল। সিবিআই তদন্তভার পাওয়ার পরও বিভিন্ন মহলে অসন্তোষ ছিল। প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ উঠেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের হাসপাতাল পরিদর্শন এবং তারপর হাইকোর্টের এই আদেশ মামলাটিকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।