রাস্তায় নামাজ না পড়ার নির্দেশ! না মানলে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি যোগীর
লখনউ: উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাস্তা জনসাধারণের চলাচলের জন্য, কোনো ধর্মীয় প্রার্থনার নামে যানজট সৃষ্টি করার জন্য নয়। তিনি বলেছেন, উত্তরপ্রদেশে রাস্তায় নামাজ পড়ার ঘটনা আর ঘটবে না। বড় ধরনের জমায়েত হলে তা শিফটে ভাগ করে সামলানো উচিত, যাতে অপ্রয়োজনীয় ভিড় ও যানজট না হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “রাস্তা জনগণের চলাচলের জন্য। এটাকে প্রার্থনার স্থান বানানো যাবে না। উত্তরপ্রদেশে রাস্তায় নামাজ হয় না এবং হতে দেওয়া হবে না।” তিনি আরও জানান, যদি কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বড় জমায়েত হয়, তাহলে তা একাধিক শিফটে ভাগ করে পরিচালনা করতে হবে। এতে শহরের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক থাকবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আইন-শৃঙ্খলা ও জনজীবনের সুবিধাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।উত্তরপ্রদেশে গত কয়েক বছর ধরে রাস্তায় নামাজ পড়ার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চলছিল। বিশেষ করে শুক্রবারে বড় মসজিদের সামনে বা চওড়া রাস্তায় জমায়েত হয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেত। অফিসগামী মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি যানবাহন চরম সমস্যায় পড়ত। অনেক সাধারণ নাগরিক এই নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
আরও দেখুনঃ সুপ্রিম-সংশয়ে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক! ‘শিক্ষকরা যোগ্য তো?’, কড়া প্রশ্ন শীর্ষ আদালতের
যোগী সরকারের এই কড়া অবস্থানকে তাই অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন।প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, এই নির্দেশিকা কার্যকর করতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বড় মসজিদ ও প্রার্থনাস্থলের আশপাশে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কঠোর করা হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। যোগী আদিত্যনাথের সরকার ইতিমধ্যে অবৈধ দখল, লাউডস্পিকারের অপব্যবহার এবং রাস্তা অবরোধের বিরুদ্ধে কড়া অভিযান চালিয়ে আসছে। এই নতুন বার্তা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিরোধী দলগুলো অবশ্য এই মন্তব্যকে ‘সাম্প্রদায়িক’ বলে সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, এতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। কিন্তু সরকারি সূত্র বলছে, এটি কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। সব ধর্মের জন্যই একই নিয়ম প্রযোজ্য। হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও রাস্তা অবরোধ করে বড় জমায়েত করা যাবে না।সাধারণ মানুষের মধ্যে অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে বাস্তবসম্মত বলে মনে করা হচ্ছে।
গাজিয়াবাদ, নয়ডা, মিরাটসহ বিভিন্ন শহরে ট্রাফিক সমস্যা এমনিতেই তীব্র। তার উপর রাস্তায় প্রার্থনার নামে অবরোধ হলে জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে ওঠে। অনেকে বলছেন, মসজিদের ভিতরে বা নির্ধারিত জায়গায় প্রার্থনা করলে কোনো সমস্যা হয় না। শুধু রাস্তা দখল করলেই অসুবিধা।
