কূটনীতিতে কবিগুরু, সুইডেনে মোদীকে রবীন্দ্রনাথের লেখা কবিতা উপহার, পাল্টা শান্তিনিকেতনের ব্যাগ, গীতাঞ্জলি - 24 Ghanta Bangla News
Home

কূটনীতিতে কবিগুরু, সুইডেনে মোদীকে রবীন্দ্রনাথের লেখা কবিতা উপহার, পাল্টা শান্তিনিকেতনের ব্যাগ, গীতাঞ্জলি

Spread the love

সুইডেন থেকে শান্তিনিকেতন কত দূর? ভৌগলিকরা এর মাপজোখ করবেন। তবে ১৩ নভেম্বরের নোবেল প্রাপ্তির খবরটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে পৌঁছেছিল পাক্কা ২৪ ঘণ্টা পরে। মানে ১৪ নভেম্বর। তাও ৬ নং দ্বারকানাথ ঠাকুর লেনের ঠিকানায়। সুইডিশ অ্যাকাডেমির কাছে কবির ঠিকানা ছিল না। তারা হয়তো জানতই না শান্তিনিকেতন কোথায়। এখন অবশ্য গোটা সুইডেন তা জানে। রবিবার সুইডেন সফরে পৌঁছনোর পরে তাই বোধহয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিজের হাতে লেখা দু’টি কবিতার প্রতিলিপি তুলে দিলেন সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন।

নীল কোবাল্ট রঙের একটি বাক্স। তার উপর আর নীচের থাকে সাজানো রয়েছে রবীন্দ্রনাথের হাতে লেখা দু’টি ছোট কবিতা। আধুনিক সাহিত্যের ভাষায় যাকে এপিগ্রাম বলে। নোবেল পুরস্কার নিতে সুইডেন যেতে পারেননি কবিগুরু। পরে ১৯২১ এবং ১৯২৬ সালে দুই বার গিয়েছিলেন। সেই সময়ে এই এপিগ্রাম দু’টি লিখেছিলেন তিনি। মোদীকে উপহার দেওয়ার জন্য সুইডেনের ন্যাশনাল আর্কাইভ থেকে সেগুলি নিয়ে আসা হয়। তার পরে সোনালি রঙের কালিতে সাজিয়ে তুলে দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে।

রবীন্দ্রনাথের কোন দু’টি কবিতা মোদীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, তা জানা যায়নি। এই নিয়ে মুখ খোলেনি সুইডিশ সরকার। তবে জানা গিয়েছে, একটি কবিতা বাংলায় লেখা অন্যটি ইংরেজিতে। বিষয়বস্তু ছিল প্রাচ্য আর প্রাশ্চাত্যের মেলবন্ধন। ১৯২১ সালের সফরে সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ে তোলা কবিগুরুর একটি দুর্লভ ছবি এবং কবিতা দুটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের একটি ব্যাখ্যামূলক নোটও তুলে দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর হাতে।

পাল্টা রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলি এবং কবির সংগৃহীত রচনাবলী সংকলন সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন মোদী। সঙ্গে দিয়েছেন শান্তিনিকেতনের কারিগরদের হাতে তৈরি একটি ব্যাগ। এছাড়াও লাদাখের একটি শাল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিখ্যাত লোকতাক চা-ও স্যুভেনির হিসেবে সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েছেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সুইডেনের ক্রাউন প্রিন্সেস ভিক্টোরিয়াও। তাঁকে মধ্যপ্রদেশের বিখ্যাত গোণ্ড চিত্র উপহার হিসেবে দিয়েছেন মোদী। সঙ্গে একটি বই।

এ দিন উলফ ক্রিস্টারসনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন এবং ক্রিটারসনকে নিয়ে একটি যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের স্তরে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করে মোদী বলেন, ‘বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খুব শীঘ্রই টেকনোলজি ও AI করিডর গড়ে তুলতে চলেছে সুইডেন ও ভারত।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *