কাটমানি-নারী নির্যাতনে তদন্ত শুরু শুভেন্দুর! কমিটিতে বিশ্বজিত-দময়ন্তী - 24 Ghanta Bangla News
Home

কাটমানি-নারী নির্যাতনে তদন্ত শুরু শুভেন্দুর! কমিটিতে বিশ্বজিত-দময়ন্তী

Spread the love

Published: May 18, 2026 at 4:56 PM ·
Updated: May 18, 2026 at 4:56 PM ·
1 min read

কলকাতা: রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং মহিলাদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ নিয়ে এবার বড় পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার ঘোষণা করেছেন, দুর্নীতি এবং নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলির তদন্তের জন্য পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১ জুন থেকে এই দুই কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যের সাধারণ মানুষ বহুদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আসছেন। সেই সমস্ত অভিযোগ এবার নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা হবে।” তাঁর দাবি, অতীতে বহু ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও যথাযথ তদন্ত হয়নি। সেই কারণেই এবার একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আরও দেখুনঃ রাস্তায় নামাজ না পড়ার নির্দেশ! না মানলে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি যোগীর

প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্তে গঠিত কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিত বসুকে। এই কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আইপিএস কর্মকর্তা কে জয়রামন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, মিড-ডে মিল, আবাস যোজনা, ১০০ দিনের কাজ-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে যেসব দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সবকিছুই তদন্তের আওতায় আনা হবে। শুধু প্রকল্প নয়, সরকারি কাজের বরাত, নির্মাণ এবং প্রশাসনিক স্তরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে।

একইসঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নারী নির্যাতনের অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে তফসিলি জাতি, জনজাতি এবং সংখ্যালঘু মহিলাদের উপর অত্যাচারের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। সেই অভিযোগের তদন্তে গঠন করা হয়েছে পৃথক একটি কমিশন। এই কমিশনের চেয়ারম্যান হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় এবং মেম্বার সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুই কমিশনের মেম্বার সেক্রেটারিরা সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবেন। সাধারণ মানুষ যাতে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে। কোথায় এবং কীভাবে অভিযোগ জমা দিতে হবে, সেই সংক্রান্ত নির্দেশিকাও প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, দুই কমিশনের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন জেলা এবং থানায় গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন। প্রয়োজনে জনশুনানির ব্যবস্থাও করা হবে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য সরাসরি শোনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে বর্তমানে বিচারাধীন মামলাগুলি এই কমিশনের আওতায় আসবে না। তবে যেসব অভিযোগ এখনও আদালতে বিচারাধীন নয়, সেগুলির তদন্ত করবে এই দুই কমিটি। তদন্তের স্বার্থে কমিশন যে তথ্য বা নথি চাইবে, সরকার তা সরবরাহ করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর আশা, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে দুই কমিশন তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট ও সুপারিশ জমা দেবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর বিভিন্ন ধারায় এফআইআর দায়ের এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক মহলে এই ঘোষণাকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। শাসকদলের দাবি, দুর্নীতি এবং নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে সরকার “জিরো টলারেন্স” নীতি নিয়েছে। অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। তবে প্রশাসনের বক্তব্য, গোটা প্রক্রিয়া আইন মেনেই এবং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *