এত তেল আর গ্যাস আমদানি করতে হয় কেন?
তেল ও গ্যাস উৎপাদনের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় গত কুড়ি বছরে তেলের উৎপাদন প্রকৃতপক্ষে ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ২০১১ সালে তেলের সাময়িক উত্থান হলেও গ্যাসের উৎপাদন মোটামুটি সেই একই পর্যায়ে থেকে গেছে, যা ২০০৬ সালে ছিল। কাজেই প্রয়োজন আত্মবিশ্লেষণ। যে পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে সে অনুপাতে সাফল্যের মুখ কেন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না? এ দিকে তেল আর গ্যাসের চাহিদা আকাশচুম্বী। বিশ্বে তেল আমদানিকারী দেশগুলির মধ্যে ভারতের স্থান হলো দ্বিতীয়।
ভারতে প্রতি দিন ৫৫ লক্ষ ব্যারেল তেল ব্যবহার করা হয়। ক্রমবর্ধমান এই চাহিদা মেটানোর জন্য জাতীয় তেল কোম্পানিগুলি কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে, কিন্তু সাফল্যের হার যে খুব একটা আশাপ্রদ নয়,তা আগেই দেখা গেছে। ফলে ভারতকে মূলত আমদানির উপর নির্ভর করতে হয়। ভারত তার অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৯০ শতাংশেরও বেশি চল্লিশটি দেশ থেকে আমদানি করে। এর মধ্যে রাশিয়া শীর্ষ সরবরাহকারী দেশ, যা মোট আমদানির ৩৫-৪০ শতাংশ সরবরাহ করে, ইরাক ২১ শতাংশ, সৌদি আরব ১৫- ১৬ শতাংশ, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি আর যুক্তরাজ্য মিলিয়ে ৯-১০ শতাংশ আর আফ্রিকা ও আমেরিকা, বাকি ৮-১০ শতাংশ সরবরাহ করে। অর্থাৎ, পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি মিলিয়ে এখনও ৫৪ শতাংশের উপর সরবরাহ করে। কিন্তু হরমুজ় প্রণালীতে বাধানিষেধ সৃষ্টি হওয়ার ফলে ভারত এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আফ্রিকা আর লাতিন আমেরিকা থেকে আমদানি বাড়ানোর কথা ভাবনাচিন্তা করছে।
কাজেই ভারতের জ্বালানি-নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটা অদ্ভুত পরিবর্তন শুরু হয়েছে। কয়েক দশক ধরে হরমুজ়-এর সংকীর্ণ পথটি ছিল ভারতের বৃহত্তম কৌশলগত দুর্বলতা, কারণ তেলের প্রায় ৬৫-৭০ শতাংশ আর এলপিজির ৯০ শতাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে যাতায়াত করত। পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা বৃদ্ধি আর জাহাজ অবরোধের বিকল্প হিসেবে ভারত অপরিশোধিত তেলের আমদানির ৭০ শতাংশ, হরমুজ় প্রণালীর বাইরে দিয়ে পরিবহণ করা শুরু হয়েছে