‘একদিন মানুষ 3D প্রিন্টারে তৈরি মাংস খাবে!’ গো হত্যায় নিষেধাজ্ঞায় মত তসলিমার
নয়াদিল্লি: বাংলায় ক্ষমতায় এসেই গো হত্যা বন্ধের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বিজেপি সরকার। (Taslima Nasrin)এই ইস্যুতে বিপদে পড়েছেন অনেক হিন্দুরাও। অনেক হিন্দু খামারি কুরবানীর আগে গরু বিক্রি করতেন। এখন মুসলিমরাই সেই গরু কেনা থেকে বিরত থাকছেন। অনেকেই বলছেন গরু হিন্দুদের মা তবে গরু বিক্রি কেন করা হচ্ছে। এই আবহেই ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করে আলোচনার কেন্দ্রে সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে মানুষ হয়তো 3D প্রিন্টারে তৈরি মাংস খাবে, যেখানে স্বাদ ও পুষ্টি থাকবে, কিন্তু থাকবে না রক্তপাত বা পশুহত্যা।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই তসলিমা নাসরিন তাঁর প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, কোরবানি ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি অত্যন্ত অদ্ভুত। তাঁর মতে, অনেক মানুষ ধর্মীয় রীতির কারণে নয়, বরং জীবিকার স্বার্থে গরুর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ফলে হঠাৎ নিষেধাজ্ঞা বা সামাজিক চাপ তাঁদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
আরও দেখুনঃ ‘নিজেকে মা সারদা ভাবতেন, মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছে উনি…!’ মমতাকে বিঁধলেন অগ্নিমিত্রা
একইসঙ্গে তিনি পশুহত্যার প্রকাশ্য সংস্কৃতিরও তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, “মানুষ মাংস খেতে চাইলে বাজার থেকে কিনে আনতেই পারে। কিন্তু নিজের হাতে পশুর গলা কাটা, আর সেই দৃশ্য শিশুদের সামনে প্রকাশ্যে ঘটানো কোনও সভ্য সমাজের লক্ষণ হতে পারে না।” শুধু গরু নয়, ছাগল, ভেড়া বা অন্য গবাদিপশুর ক্ষেত্রেও প্রকাশ্যে জবাইয়ের বিরোধিতা করেছেন তিনি।
তসলিমার মতে, পশু জবাই যদি করতেই হয়, তাহলে তা নির্দিষ্ট স্লটার হাউজে বিজ্ঞানসম্মত এবং কম কষ্টদায়ক পদ্ধতিতে হওয়া উচিত। তিনি “স্টানিং” পদ্ধতির উল্লেখ করে বলেন, প্রাণীকে কম যন্ত্রণায় হত্যা করার মানবিক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, ধর্মীয় আচার পালনের নামে প্রকাশ্য রক্তারক্তি সমাজে সহিংসতার মানসিকতা বাড়াতে পারে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি করেছে তাঁর 3D প্রিন্টেড মাংস সংক্রান্ত মন্তব্য। তসলিমা লিখেছেন, “হয়তো একদিন মানুষ এমন প্রযুক্তিনির্ভর মাংস খাবে যেখানে পশুহত্যা ছাড়াই একই স্বাদ ও পুষ্টি পাওয়া যাবে।” বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বিশ্বজুড়ে ইতিমধ্যেই “ল্যাব গ্রোন” বা কৃত্রিম মাংস নিয়ে গবেষণা চলছে এবং ভবিষ্যতে সেটাই খাদ্য শিল্পে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে লেখিকার এই মন্তব্য ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই পশু নির্যাতন ও প্রকাশ্য জবাই নিয়ে তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। আবার অন্য একাংশের দাবি, ধর্মীয় প্রথা এবং খাদ্যাভ্যাস নিয়ে এভাবে মন্তব্য করা বিতর্ক আরও বাড়াতে পারে।
রাজনৈতিক মহলেও এই ইস্যু নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে গো হত্যা নিষিদ্ধকরণকে সমর্থন করছে শাসকদল, অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তে বহু মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সব মিলিয়ে ধর্ম, অর্থনীতি, পশু অধিকার এবং আধুনিক প্রযুক্তি সবকিছুকে ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ।
