খাওয়া নিয়ে রোজ খোটা ভারতীকে! মায়ের বিরুদ্ধে একী বললেন জনপ্রিয় কমেডিয়ান? | Bharti Singh Opens Up Facing Body Shaming While Growing Up - 24 Ghanta Bangla News
Home

খাওয়া নিয়ে রোজ খোটা ভারতীকে! মায়ের বিরুদ্ধে একী বললেন জনপ্রিয় কমেডিয়ান? | Bharti Singh Opens Up Facing Body Shaming While Growing Up

Spread the love

চেহারার গড়ন আর ওজনের কারণে বিনোদন দুনিয়া থেকে শুরু করে সমাজ— সর্বত্রই বারবার কটাক্ষের মুখোমুখি হতে হয়েছে জনপ্রিয় কৌতুকশিল্পী ভারতী সিংহকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অতীত হাতড়ে তিনি জানান, আজ তিনি সাফল্যের শিখরে পৌঁছলেও, ছোটবেলা থেকেই নিজের শরীর নিয়ে নানারকম কটু কথা শুনতে হয়েছে তাঁকে।

ভারতীর মতে, তিনি যখন বড় হচ্ছিলেন, তখন সমাজে কারও শরীর বা রূপ নিয়ে মন্তব্য করাটাকে অত্যন্ত সাধারণ এবং স্বাভাবিক ঘটনা বলে ধরে নেওয়া হতো। কেউ সামান্য স্থূলকায় হলেই অবলীলায় তাকে ‘মোটা’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হতো, আবার গায়ের রং একটু চাপা হলেই জুটত ‘কালো’ অপবাদ। এই ধরনের সংবেদনহীন কথাবার্তা যে একজন মানুষের মনের ভেতরে কতটা গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে, তা নিয়ে তখন কেউ মাথা ঘামাত না।

ভারতী অকপটে স্বীকার করেছেন যে, বাইরের লোক তো দূর, খোদ তাঁর নিজের মা-ও প্রায়ই তাঁকে বলতেন, “আর কত খাবি? এবার খাওয়া থামা, না হলে আরও মোটা হয়ে যাবি।” ছোটবেলায় ঘরের ভেতরে-বাইরে এসব কথা শুনতে শুনতে একরকম অভ্যস্তই হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তবে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তিনি উপলব্ধি করেন, এই ধরণের ‘বডি শেমিং’ বা শারীরিক গঠন নিয়ে কুৎসিত মন্তব্য একজন মানুষের আত্মবিশ্বাসকে ভেতর থেকে কতটা দুমড়ে-মুচড়ে দিতে পারে।

অবশ্য ছোটবেলার সেইসব যন্ত্রণাদায়ক মন্তব্য শুনে মনে কষ্ট পেলেও, ভারতী নিজেকে কখনও ভেঙে পড়তে দেননি। বরং সমস্ত নেতিবাচক বিষয়কে দূরে ঠেলে নিজের আত্মবিশ্বাসকে ঢাল বানিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের একার দমে পরিচয় তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন। গ্ল্যামার দুনিয়ায় পা রাখার পরও তিনি লক্ষ্য করেছেন, কীভাবে মানুষের শরীর নিয়ে সস্তা ঠাট্টা-মশকরা করে হাসির খোরাক তৈরি করা হয়। কিন্তু ভারতী নিজে সিদ্ধান্ত নেন, কাউকে অপমান করে বা কারও শারীরিক গঠনকে খাটো করে তিনি কখনও কমেডি করবেন না।

আজ ভারতী সিংহ দেশের অন্যতম সেরা এবং জনপ্রিয় কৌতুকশিল্পী তথা সঞ্চালক। গ্ল্যামার দুনিয়ার চেনা ছক ও ‘জিরো ফিগার’-এর মিথ ভেঙে তিনি প্রতি মুহূর্তে প্রমাণ করে দিচ্ছেন যে, বাহ্যিক রূপ বা শরীরের গঠন নয়, মানুষের ভেতরের প্রতিভা, কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য আত্মবিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত আসল পরিচয় হয়ে দাঁড়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *