যোগী রাজ্যে ‘হালালা’ মামলায় প্রথম এফআইআর! পুর পরিবারকে কড়া দাওয়াই
দেরাদুন: উত্তরাখণ্ডে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (Uttarakhand) কার্যকর হওয়ার পর দেশে প্রথমবারের মতো ‘হালালা’ প্রথার অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়েছে। অভিযোগকারিণী এক মুসলিম নারী শাহিন তাঁর স্বামী মোহাম্মদ দানিশ ও …
দেরাদুন: উত্তরাখণ্ডে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (Uttarakhand) কার্যকর হওয়ার পর দেশে প্রথমবারের মতো ‘হালালা’ প্রথার অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়েছে। অভিযোগকারিণী এক মুসলিম নারী শাহিন তাঁর স্বামী মোহাম্মদ দানিশ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
এই ঘটনা সারা দেশে ব্যাপক চর্চা ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।শাহিনের অভিযোগ, তাঁকে তালাক দেওয়ার পর স্বামী মোহাম্মদ দানিশ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা হালালা প্রথা মেনে চলতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ আরশাদ, পারভেজ, জাভেদ ও গুলশানা। শাহিন দাবি করেছেন, তালাকের পর আবার স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য তাঁকে অন্য একজনের সঙ্গে বিয়ে করে সম্পর্ক স্থাপন করতে বলা হয়েছিল। এই নৃশংস ও অমানবিক প্রথার বিরুদ্ধে তিনি সাহসের সঙ্গে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।
আরও দেখুনঃ তিলজলায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা! ঘটনাস্থলে নৌশাদ
হালালা প্রথা হল মুসলিম সমাজের একটি কুপ্রথা যেখানে কোনো মুসলিম দম্পতি শরিয়ত সম্মতভাবে তিনবার বিবাহবিচ্ছেদ (তালাক) করার পর যদি আবার একে অপরকে বিয়ে করতে চান, তবে এই প্রথাটি কার্যকর হয়। ইসলামে একজন পুরুষ তার স্ত্রীকে তিনবার তালাক (তালাক-ই-মুগাল্লাজাহ) দেওয়ার পর, সে সরাসরি ওই নারীকে পুনরায় বিয়ে করতে পারে না।পূর্বতন স্বামীর সাথে পুনরায় সংসার করতে চাইলে, ওই নারীকে প্রথমে অন্য একজন পুরুষকে বিয়ে করতে হবে।দ্বিতীয় স্বামী যদি স্বেচ্ছায় ওই নারীকে তালাক দেন অথবা দ্বিতীয় স্বামীর মৃত্যু হয়, কেবল তখনই প্রথম স্বামী ওই নারীকে আবার বিয়ে করার যোগ্যতা লাভ করেন।
উত্তরাখণ্ড পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, ইউসিসি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এটি দেশের প্রথম হালালা সংক্রান্ত এফআইআর। পুলিশ অভিযুক্তদের খুঁজছে এবং শাহিনের বয়ানের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। শাহিনের আইনজীবী বলেছেন, “এই নারী অত্যন্ত সাহসী। দীর্ঘদিন মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন সহ্য করার পর অবশেষে আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
ইউসিসি তাঁর মতো অসংখ্য নারীর অধিকার রক্ষায় সাহায্য করবে।”উত্তরাখণ্ড ২০২৪ সালে দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে ইউনিফর্ম সিভিল কোড চালু করে। এই আইনে বহুবিবাহ, হালালা, ইদ্দত ও অন্যান্য ধর্মভিত্তিক বৈষম্যমূলক প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই আইন সকল নাগরিককে সমান অধিকার দেবে এবং নারীদের বিশেষভাবে সুরক্ষা প্রদান করবে। এই মামলার ঘটনায় ইউসিসি-র কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।