ভালোবাসায় ইম্প্রেস নয় কমফোর্ট খুঁজছে Gen Z, কী বলছে ‘ইয়ার ইন সোয়াইপ ২০২৫’ রিপোর্ট?
এই কারণেই এখন ‘ইমোশনাল অনেস্টি’ বা মনের সততার গুরুত্ব এতটা বেড়েছে। টিন্ডারের ‘ইয়ার ইন সোয়াইপ ২০২৫’ রিপোর্ট অনুযায়ী, ৬৪ শতাংশ জেন জ়ি মনে করেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি হলো নিজের অনুভূতি, চাওয়া-পাওয়া আর সৎ ভাবে সব কথা বলতে পারা। অন্য একটি সমীক্ষায়, প্রায় ৭৩ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তাঁরা তখনই কাউকে সত্যিকারের পছন্দ করেন, যখন সেই মানুষটির সামনে একেবারে নিজের মতো থাকা যায়। অর্থাৎ, এখনকার প্রেমে ‘ইম্প্রেস’ করার চেয়ে ‘কমফোর্ট’ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকাল অনেক সম্পর্কই ‘পারফর্মেটিভ ডেটিং’-এর মধ্যে আটকে যাচ্ছে। অর্থাৎ, মানুষ অনেক সময় নিজের আসল সত্তাকে নয়, বরং এমন একটা ভার্সানকে তুলে ধরতে চাইছেন, যেটা অন্যের কাছে বেশি অ্যাট্র্যাকটিভ মনে হবে। ফলত, কেউ নিজের পছন্দ-অপছন্দ লুকিয়ে ফেলছেন, কেউ আবার শুধু সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখার জন্য সব বিষয়ে হ্যাঁ তো হ্যাঁ মেলাচ্ছেন। বাইরে থেকে সব ঠিকঠাক মনে হলেও ভিতরে ভিতরে সেই ধরনের মানুষ ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। কারণ দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় করে যাওয়া কখনওই সহজ নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ সম্পর্কের মূল চাবিকাঠি হলো নিরাপত্তা। সেখানে কাউকে আলাদা করে ইম্প্রেস করার প্রয়োজন পড়ে না। বরং সম্পর্কটা এমন হয়, যেখানে মানুষ স্বাভাবিক ভাবেই নিজের কথা বলতে পারেন, নিজের দুর্বলতাও প্রকাশ করতে পারেন। আর সেই কারণেই এখন অনেক তরুণ-তরুণী বাহ্যিক চাকচিক্যের চেয়ে বিশ্বস্ততা, সম্মান আর মানসিক স্বস্তিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, শারীরিক আকর্ষণের চেয়েও এখন অনেকের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে লয়্যালটি এবং রেসপেক্ট।
তবে বদলেছে সম্পর্ক তৈরির ধরণও। এমন অনেক মানুষ আছেন যাঁরা প্রথম থেকেই নিজের জীবনের সব কথা বলে ফেলতেন। কিন্তু এখন সেই থিয়োরি বদলেছে। তরুণ প্রজন্ম ধীরে সুস্থে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছেন। বিশেষত Gen Z-রা। প্রথমে দীর্ঘদিন কথা বলা, তার পর বিশ্বাস তৈরি হওয়া, আর তার পর ধীরে ধীরে নিজের গভীর অনুভূতিগুলো ভাগ করে নেওয়া— এই প্রবণতা এখন অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। এতে সম্পর্ক কখনওই বোঝা হয়ে ওঠে না, আবার মানুষও নিজেকে নিরাপদ মনে করেন।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সুস্থ সম্পর্কের জন্য দু’টি মানুষকে নিখুঁত হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্পর্কের লক্ষ্য নয়, নিজের মতামতটাও সম্মানের সঙ্গে জানাতে পারা জরুরি। কারণ সম্পর্ক তখনই গভীর হয়, যখন সেখানে কোনও আড়াল থাকে না।