তিলজলায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা! ঘটনাস্থলে নৌশাদ
কলকাতার তিলজলার বারীভাঙ্গা এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হল বেআইনি বহুতল ভাঙাকে কেন্দ্র করে (Tiljala illegal building)। কয়েকদিন আগেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আলোচনায় উঠে আসা ওই বহুতলকে …
কলকাতার তিলজলার বারীভাঙ্গা এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হল বেআইনি বহুতল ভাঙাকে কেন্দ্র করে (Tiljala illegal building)। কয়েকদিন আগেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আলোচনায় উঠে আসা ওই বহুতলকে ঘিরে প্রশাসনের বুলডোজার অভিযান নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিল। ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর আইএসএফ বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকীকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় তৃণমূল সমর্থক ও এলাকার একাংশের বাসিন্দারা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে শেষ পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি তিলজলার ওই বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর তদন্তে উঠে আসে যে গোটা নির্মাণটাই নাকি বেআইনি ভাবে তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনুমতি ও নিরাপত্তা মান না মেনেই বহু তলা নির্মাণ করা হয়েছিল। আগুন লাগার পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং প্রশাসনের উপর চাপ বাড়তে থাকে। এরপর কলকাতা পুরসভা (KMC) এবং কেএমডিএ (KMDA) যৌথভাবে ওই অবৈধ নির্মাণ ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয়।
আরও দেখুনঃ ‘তাপস-সজলকে রাখতে চেয়েছিলাম!’ শপথের দিনেই তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ নিয়ে সরব কুনাল
বৃহস্পতিবার সকালে বুলডোজার, ড্রিলিং মেশিন এবং আর্থ মুভার নিয়ে ভাঙার কাজ শুরু হয়। দ্বিতীয় দিনের এই অভিযানের সময় গোটা এলাকায় কড়া পুলিশি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়। কারণ প্রশাসন আগেই আশঙ্কা করেছিল, এই ভাঙাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াতে পারে।
এর মধ্যেই বিকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছন আইএসএফ বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকী। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি দেখতে যান এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁর পৌঁছনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় তৃণমূল সমর্থক এবং কয়েকজন মহিলা বাসিন্দা তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অভিযোগ ওঠে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি উত্তেজিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বুঝে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং পরে ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জও করা হয়। যদিও ঘটনায় বড় ধরনের আহত হওয়ার খবর মেলেনি।
ঘটনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নৌশাদ সিদ্দিকী প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, বহুতলটি বেআইনি হতে পারে, কিন্তু যেভাবে তাড়াহুড়ো করে সেটি ভাঙা হচ্ছে তা-ও আইনি প্রক্রিয়া মেনে হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, “মানুষের নিরাপত্তা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আইন মেনেই সব কাজ করতে হবে। কাউকে ভয় দেখিয়ে বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়।”
অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া মেনেই করা হচ্ছে। আগুন লাগার ঘটনার পর বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টে ভবনটিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া অন্য কোনও উপায় ছিল না বলেই জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। একদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, প্রশাসন নির্বাচনের পর বেছে বেছে কিছু এলাকায় বুলডোজার অভিযান চালাচ্ছে। অন্যদিকে শাসক শিবিরের বক্তব্য, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।