Mrinal sen: মৃণাল সেনের কোন কথায় সত্যজিতের উপর চটে গিয়েছিলেন ঋত্বিক? | Satyajit ray vs ritwik ghatak abhijan ajantrik controversy - 24 Ghanta Bangla News
Home

Mrinal sen: মৃণাল সেনের কোন কথায় সত্যজিতের উপর চটে গিয়েছিলেন ঋত্বিক? | Satyajit ray vs ritwik ghatak abhijan ajantrik controversy

Spread the love

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের দুই মহীরুহ— সত্যজিৎ রায় ও ঋত্বিক ঘটক। তাঁদের সম্পর্কটা ছিল অনেকটা অম্ল-মধুর। একদিকে যেমন একে অপরের কাজের গুণগ্রাহী ছিলেন, অন্যদিকে সিনেমার দর্শন ও নির্মাণ নিয়ে তাঁদের মতবিরোধও ছিল সর্বজনবিদিত। ঋত্বিক ঘটক ছিলেন আপাদমস্তক স্পষ্টবক্তা; সমালোচনা হোক বা প্রশংসা, তিনি সবসময়ই সোজাসাপটা কথা বলতে পছন্দ করতেন। সত্যজিৎ রায়ও তাঁর এই ধারালো সমালোচনা থেকে বাদ যাননি।

বিশেষ করে ১৯৬২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সত্যজিৎ রায়ের ‘অভিযান’ ছবিটিকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী ছিল টলিউড। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও ওয়াহিদা রহমান অভিনীত এই ছবিটি যখন চারদিকে প্রশংসা কুড়োচ্ছে, ঠিক তখনই সিনেমা হল থেকে মাঝপথে রাগে গজগজ করতে করতে বেরিয়ে আসেন ঋত্বিক ঘটক।

কেন হঠাৎ এমন মারমুখী মেজাজে হল ছাড়লেন তিনি?

ঘটনাটির সূত্রপাত আসলে মৃণাল সেনের একটি কথায়। ঋত্বিক ঘটক নিজেই পরবর্তীকালে একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, তিনি প্রথমে ছবিটি দেখতে যাননি। মৃণাল সেনই তাঁকে এসে বলেন, ‘অভিযান’-এর বেশ কিছু দৃশ্যের সাথে ঋত্বিকের ‘অযান্ত্রিক’ (১৯৫৮) ছবির অদ্ভুত মিল রয়েছে। কৌতূহলবশত ছবিটা দেখতে গিয়ে ঋত্বিক লক্ষ্য করেন, সত্যিই অনেকগুলো ফ্রেম যেন হুবহু তাঁর ছবি থেকেই অনুপ্রাণিত— বিশেষ করে দৃশ্য নির্মাণের ধরণ।

নিজের সৃষ্টির এমন ‘ছায়া’ দেখে স্থির থাকতে পারেননি ঋত্বিক। ক্ষোভে-অভিমানে ছবির মাঝপথেই হল ত্যাগ করেন তিনি। সে সময় ইন্ডাস্ট্রিতে এই নিয়ে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। যদিও রাগের মাথায় সত্যজিৎ রায়কে কিছু বলবেন বলে ভেবেছিলেন, পরে অবশ্য নিজেকে সংযত করে নেন। ঋত্বিকের ভাষায়, “ভেবেছিলাম সত্যজিৎকে সবটা জানাব, কিন্তু শেষ পর্যন্ত চুপই থেকেছি।” তবে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে খোঁচা দিতে ছাড়েননি তিনি। তাঁর মতে, ফ্রেমের অনুকরণ করলেও ‘অভিযান’ শেষ পর্যন্ত তাঁর মনের মতো ছবি হয়ে ওঠেনি।

১৯৫৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অযান্ত্রিক’ ছবিতে কালী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই অবিস্মরণীয় অভিনয়ের পাশে ‘অভিযান’-এর তুলনা নিয়ে ঋত্বিকের এই অসন্তোষ আজও চলচ্চিত্র প্রেমীদের কাছে এক রোমাঞ্চকর অধ্যায়। বন্ধুত্ব আর শৈল্পিক লড়াইয়ের এমন উদাহরণ বিশ্ব সিনেমাতেই বিরল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *