বন্ধুত্বে নেই কোনও ফর্ম্যালিটি, একটুকরো স্বস্তির কারণ হতে পারে এই ধরণের বন্ধুরাই, জানেন ‘ডোরবেল ফ্রেন্ড’ কী?
আজকের ব্যস্ত জীবনে এমন বন্ধুত্ব যেন একটু একটু করে কমে যাচ্ছে। এখন কাউকে দেখা করার আগে মেসেজ করতে হয়, তার সময়ের সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করতে হয়, দু’পক্ষের দিনক্ষণ, সময় মিললে তবেই প্ল্যান করতে হয়। ঠিক ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার মতো বিষয় আর কী। ‘শিগগির দেখা হবে’— কথাটা বললেও, সেই দেখা করাটা অনেক সময় আর হয়েই ওঠে না। নিজের কাজ, পড়াশোনা, দায়িত্ব আর ব্যস্ততার মধ্যে আটকে। তাই এমন একজন মানুষ, যার কাছে যাওয়ার আগে দু’বার ভাবতে হয় না, যে হঠাৎ এসে বলতেই পারে ‘চল, একটু ঘুরে আসি’, এই ধরনের বন্ধুত্ব সত্যিই আজকের দিনে অনেকটা স্পেশ্যাল।
এই বন্ধুরাই হলো সেই মানুষ, যাঁদের সঙ্গে ছোট ছোট মুহূর্তও বিশেষ হয়ে ওঠে। বাজার করতে যেতে যেতে ফোন করা, রাতের বেলা হঠাৎ আইসক্রিম খেতে বেরিয়ে পড়া, বা রান্নাঘরে বসে গল্প করতে করতে ম্যাগি খাওয়া— এ সবের মধ্যেই তৈরি হয় জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি। এখানে কোনও দেখনদারি নেই, কোনও বাড়তি আয়োজনও নেই। সম্পর্কটা একেবারে স্বাভাবিক। আর সেই কারণেই এই বন্ধুত্ব এত আরাম দেয়, এত শান্তি দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বন্ধুত্ব মানসিক দিক থেকেও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সব সম্পর্কের জন্য বড় বড় প্ল্যান লাগে না। বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট মুহূর্তই মানুষকে কাছাকাছি আনে। একসঙ্গে পাঁচ মিনিট হাঁটা, রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে চা খাওয়া বা হঠাৎ দেখা হয়ে যাওয়া— এগুলোই সম্পর্ককে আরও গভীর করে। তবে সব ভালো বন্ধুত্বই যে ‘ডোরবেল ফ্রেন্ড’-এর মতো হবে, এমন নয়। অনেক বন্ধু দূরে থাকেন, তবু কঠিন সময়ে সবার আগে পাশে দাঁড়ান। আবার অনেক সম্পর্ক আছে, যেখানে রোজ কথা না হলেও টানটা একই রকম থাকে। তাই বন্ধুত্বের মাপকাঠি কখনওই স্থান-কালের উপর নির্ভর করে না।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, তবু জীবনে যদি এমন একজন মানুষ থাকে, যাঁর কাছে যাওয়ার আগে ভাবতে হয় না, যাঁর সঙ্গে চুপচাপ বসেও স্বস্তি পাওয়া যায়, তা হলে সেই সম্পর্ক সত্যিই খুব মূল্যবান। কারণ আজকের এই ব্যস্ত, দ্রুত বদলে যাওয়া জীবনে এমন মানুষ খুব সহজে পাওয়া যায় না।