জ্বালানি বাঁচাতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ! নিজের কনভয় ৫০% ছোট করছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
নয়াদিল্লি: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপের মুখে দেশবাসীকে সাশ্রয়ের পথ দেখালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজস্ব নিরাপত্তা …
নয়াদিল্লি: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপের মুখে দেশবাসীকে সাশ্রয়ের পথ দেখালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজস্ব নিরাপত্তা কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (SPG)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন নিরাপত্তা বিঘ্নিত না করে গাড়ির সংখ্যা অবিলম্বে হ্রাস করা হয়। (Modi reduces convoy amid oil price rise)
প্রধানমন্ত্রী কেবল কনভয়ের আকার ছোট করেননি, বরং জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য কনভয়ে বৈদ্যুতিক যানবাহনের (EV) ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই পরিবর্তনের জন্য নতুন করে কোনও গাড়ি কেনা যাবে না। গত রবিবার হায়দরাবাদের এক জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে এক বছরের জন্য সোনা কেনা এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আর্জি জানিয়েছিলেন। সেই আহ্বানের পর নিজেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে এই পদক্ষেপ নিলেন তিনি।
বিভিন্ন রাজ্যেও প্রভাব
প্রধানমন্ত্রীর এই অভিযান ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিফলিত হতে শুরু করেছে। গুজরাট এবং অসমে সাম্প্রতিক সফরের সময় মোদীর কনভয়ে অনেক কম সংখ্যক গাড়ি দেখা গিয়েছে। মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরাও তাঁদের কনভয় ছোট করার নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সিআর পাটিলও তাঁর এসকর্ট গাড়ি ব্যবহার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আর্জি
বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার রক্ষা করতে এবং দেশের অর্থনীতিকে মজবুত রাখতে প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন৷ তিনি বলেন, পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে মেট্রো রেল বা কারপুলিং-এ জোর দেওয়া। বড় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে রেলওয়ে পার্সেল সার্ভিস ব্যবহার করা। সম্ভব হলে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার অভ্যাস বজায় রাখা। ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমানো এবং রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রাকৃতিক চাষে গুরুত্ব দেওয়া। স্বদেশি পণ্যের ব্যবহার বাড়িয়ে আত্মনির্ভরতাকে শক্তিশালী করা। পশ্চিম এশিয়ার সংকটের প্রভাব থেকে দেশের নাগরিকদের রক্ষা করতেই এই সময়োচিত পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।