জম্মু-কাশ্মীরে মদ বন্ধ নয়! সাফ জানালেন আবদুল্লাহ
শ্রীনগর: জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স প্রেসিডেন্ট ফারুক আবদুল্লাহ (Farooq Abdullah)কাশ্মীরে মদ নিষিদ্ধকরণের প্রস্তাব নিয়ে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যারা মদ খান তারা খাবেনই। …
শ্রীনগর: জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স প্রেসিডেন্ট ফারুক আবদুল্লাহ (Farooq Abdullah)কাশ্মীরে মদ নিষিদ্ধকরণের প্রস্তাব নিয়ে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যারা মদ খান তারা খাবেনই। এখানে না পেলে বাইরে থেকে এনে খাবেন। এ বিষয়ে কী করা যাবে? যাঁরা এই ইস্যু তুলছেন, তাঁদেরই জিজ্ঞাসা করুন।সোমবার শ্রীনগরে এক অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে ফারুক আবদুল্লাহ বলেন, “আমি নিজে মদ খাই না। কিন্তু যারা খান, তাঁরা তো খাবেনই।
স্থানীয়ভাবে না পেলে বাইরে থেকে নিয়ে আসবেন। এটা বন্ধ করা কার্যত অসম্ভব।” তিনি আরও যোগ করেন, এই ইস্যু যাঁরা তুলছেন, তাঁদের উচিত বাস্তবতা বোঝা।ফারুক আবদুল্লাহ এ প্রসঙ্গে তাঁর বাবা শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর আমলের এক ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “মোরারজি দেশাই যখন প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, তিনি মদের বিরোধী ছিলেন। তিনি আমার বাবাকে বলেছিলেন প্রতিবন্ধকতা চালু করতে।
আরও দেখুনঃ বিশেষ পরিচয়পত্র ছাড়া নেপালে প্রবেশ নিষেধ ভারতীয়দের
বাবা বলেছিলেন, আমার কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু মদ থেকে যে রাজস্ব আসে, সরকার যদি সেই ক্ষতি পূরণ করে দেয়, তাহলে প্রতিবন্ধকতা চালু করা যেতে পারে। তারপর আর কিছুই হয়নি।”এই মন্তব্য কাশ্মীরের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কাশ্মীর উপত্যকায় মদ নিষিদ্ধকরণের দাবি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের কাছ থেকে উঠছে। বিশেষ করে যুবসমাজের মধ্যে মদের আসক্তি বৃদ্ধি, সামাজিক অবক্ষয় এবং পর্যটনের নামে অবাধ প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
অনেকে মনে করেন, কাশ্মীরের বিশেষ সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিবেশে মদের প্রচলন সীমিত করা উচিত।তবে ফারুক আবদুল্লাহর বক্তব্য বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন বলে মনে করছেন অনেকে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিলে কালোবাজারি বাড়বে, রাজস্ব হারাবে সরকার এবং সমস্যার সমাধান হবে না। কাশ্মীরের অর্থনীতিতে পর্যটন একটি বড় অংশ।
পর্যটকদের জন্য মদের প্রাপ্যতা অনেক হোটেল ও রিসর্টের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। হঠাৎ সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এই খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতারা বলছেন, ফারুক সাহেব সবসময় বাস্তবতার কথা বলেন। সমস্যা সমাধানের জন্য শুধু নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়, শিক্ষা, সচেতনতা ও যুবকদের কর্মসংস্থানের দিকে নজর দিতে হবে। অন্যদিকে, কিছু ধর্মীয় নেতা ফারুকের বক্তব্যকে হতাশাজনক বলে মনে করছেন।
তাঁরা দাবি করেছেন, কাশ্মীরকে মদমুক্ত করতে কঠোর আইন প্রয়োজন।জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান প্রশাসন এখনও এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এটি শুধু আইনি বিষয় নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিকও বিবেচনা করতে হবে। মোরারজি দেশাইয়ের আমলের মতোই রাজস্বের প্রশ্নটি এখনও প্রাসঙ্গিক। কাশ্মীর সরকারের জন্য মদ থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।