গোরু–বালি–কয়লা পাচার বন্ধে হুঁশিয়ারি, ‘প্রতিহিংসামূলক আচরণ নয়’ পুলিশকে শুভেন্দু–বার্তা - 24 Ghanta Bangla News
Home

গোরু–বালি–কয়লা পাচার বন্ধে হুঁশিয়ারি, ‘প্রতিহিংসামূলক আচরণ নয়’ পুলিশকে শুভেন্দু–বার্তা

Spread the love

এই সময়: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণের পরেই শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, তিনি কোনও দলের নন, ‘সকলের মুখ্যমন্ত্রী’। তবে সোমবার নতুন মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের শীর্ষ আমলা–পুলিশকর্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলার ডিএম–এসপিদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকেও সেই কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন। গত কয়েক বছরে পুলিশ–প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে কখনও সিন্ডিকেট রাজ, কখনও বা বেআইনি বালি–কয়লা খাদানের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে। নতুন সরকারের জমানায় এ সব কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে এ দিন জানিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। সূত্রের দাবি, পুলিশকর্তাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘উর্দিতে দাগ লাগতে দেবেন না। কাজের প্রয়োজনে যে কোনও রাজনৈতিক দলের নেতার সঙ্গে কথা বলুন। প্রয়োজনে বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গেও কথা বলুন। কিন্তু আগের সরকারের মতো কোনও প্রতিহিংসামূলক আচরণ করবেন না।’

পাশাপাশি পুলিশ–প্রশাসনের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, ‘সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ করুন। অবৈধ বালিখাদান, কয়লা খাদান চলবে না। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে আজ থেকেই অবৈধ গোরু পাচার বন্ধ করতে হবে।’ জেলাশাসকদের তিনি প্রতিনিয়ত বিধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেন। তিনি বিরোধী দলের বিধায়ক হলেও আপত্তি নেই। আজ থেকেই এটা শুরু করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, ‘এলাকায় এলাকায় সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ করুন।’ সূত্রের দাবি, বীরভূম জেলার জেলাশাসককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘জেলায় অবৈধ বালিখাদান, কয়লা খাদান বন্ধ করতে বিশেষ নজর দিন। সীমান্তবর্তী জেলায় বেআইনি ভাবে গোরুপাচার হচ্ছে কি না, নজর রাখুন। এটা বন্ধ করতে হবে। যাঁরা দোষ করেছেন, তাঁরা কেউ ছাড় পাবেন না।’

এ দিন দুপুরে জেলাশাসকদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের সময়ে বিজেপির ২০৭ জন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের খবর, রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গও বৈঠকে উঠে আসে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে দ্রুত উন্নয়নের কাজ শুরু করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য। এক মাসের মধ্যেই একাধিক ক্ষেত্রে ‘দৃশ্যমান পরিবর্তন’ আনার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়ে দেন, তোলাবাজির নামে রাজ্যের রাজস্ব ভাণ্ডারে আঘাত করা যাবে না। এই ব্যাপারে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে। বিধায়কদের তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তোলাবাজির ঘটনা ঘটলেই প্রশাসনের নজরে আনুন।

বিজেপি বিধায়ক জুয়েল মুর্মু বৈঠক থেকে বেরিয়ে বলেন, ‘এ বার সবার সমস্যা যাতে মেটে, সেই দিকে নজর দিতে হবে। বেআইনি কিছু চলবে না। তৃণমূল যা করেছে, তা বিজেপির আমলে যাতে না হয়, মুখ্যমন্ত্রী তা নিয়ে আমাদের কড়া ভাষায় নির্দেশ দিয়েছেন। তৃণমূলের সংস্কৃতি এখন চলবে না। ট্যাক্স আদায়ের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশই যেন রাজ্যের তহবিলে আসে, ৯৯ টাকা যেন না–হয়, সেই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এক টাকাও যাতে কারও পকেটে না ঢোকে, সেই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।’

জেলা ও রাজ্যের পুলিশকর্তাদের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, পুরোনো দাগি অপরাধীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। ভোট পরবর্তী হিংসার সঙ্গে যারা যুক্ত, খুঁজে বের করতে হবে তাদের। সূত্রের দাবি, বৈধকে শুভেন্দু বলেন, ‘মনে রাখবেন, আগের সরকারের পুলিশ আর এই সরকারের পুলিশ এক নয়। এর জন্য যত কঠিন ও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়, নেব। অনুপ্রবেশ বন্ধ করতেই হবে।’ পুলিশকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘কারও নাম নেব না, তবে মনে রাখবেন, আমি অনেক কিছুই জানি।’ আবার পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনারদের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, ‘২০২১–এর ভোট পরবর্তী হিংসার সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের ফাইল ওপেন করতে হবে। একজনও যেন ছাড় না পায়। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

জেলাশাসকদেরও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘খোঁজ নিন, ১০০ দিনের কর্মসংস্থানের টাকা যাঁরা পাচ্ছেন, তাঁরা কতটা বৈধ? অনেকেই আছেন, কাজ না করে জব কার্ড বানিয়ে টাকা তোলেন।’ তিনি এও বলেন, ‘পঞ্চায়েত ও পুরসভায় কাজ যেন থেমে না থাকে। পঞ্চায়েতে যাঁরা দায়িত্ব রয়েছেন, তাঁদের দিয়ে অবিলম্বে কাজ শুরু করাতে হবে।’ জেলার পুলিশকর্তাদের উদ্দেশে তাঁর নির্দেশ, ‘বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া কোনও কিছুর জন্য কোনও রাস্তা যেন আটকানো না–হয়, সেটা দেখবেন। আমার চলাচলের জন্য সাধারণ মানুষের কোনও হয়রানি যাতে না হয়, তাও নিশ্চিত করতে হবে।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *