‘কেউ টাকা চাইবে না’, শিল্পপতিদের নির্ভয়ে বিনিয়োগের বার্তা শমীকের, দিলেন ‘ল্যান্ড পলিসি’ তৈরির আশ্বাসও
‘বিজেপি ক্ষমতায় এলেই রাজ্যে বিনিয়োগ আসবে।’ ভোটের আগে এটাই ছিল পদ্মশিবিরের প্রচারের ট্যাগলাইন। রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। ২০৭টি আসন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তার পরেই মঙ্গলবার কলকাতার ‘বেঙ্গল ন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র ১৩৯তম বার্ষিক সাধারণ সভায় ‘বঙ্গের শিল্পবান্ধব পরিবেশ’ গড়ে তুলতে বিজেপি কতটা আগ্রহী সেটাই বোঝাতে চাইলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শিল্পপতিদের উদ্দেশে বলে দিলেন, ‘ভবিষ্যতে বাংলায় কারখানা গড়তে এলে কোনও রাজনৈতিক দল আপনাদের থেকে টাকা চাইবে না।’ খুব শীঘ্রই জমি-নীতি তৈরি হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বাম আমলে গঙ্গার দুই পাড়েই একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ বিজেপির। তৃণমূল জমানাতেও পরিস্থিতি খুব একটা বদলায়নি বলেই অভিযোগ। তোলাবাজি আর সিন্ডিকেট রাজের আতঙ্কে বহু কল-কারখানাই পাততাড়ি গুটিয়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে বিজেপি। পালাবদলের পরে পরিস্থিতি বদলাবে বলেই আশ্বাস দিলেন শমীক। শিল্পপতিদের তিনি বলেন, ‘আপনারা স্বাধীন। কেউ যদি পয়সা চায়, আমাদের জানাবেন, থানায় যাবেন। কোনও বিধায়কের বিরুদ্ধেও অভিযোগ থাকতে পারে। তাতেও কিছু এসে যায় না। ব্যবস্থা হবেই।’
ইতিমধ্যেই দেশের বহু বিনিয়োগকারী পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও দাবি করেন শমীক। তিনি বলেন, ‘কয়েক জন আমার সঙ্গে কথা বলতে এসেছিলেন। আমি বলেছি, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলুন। কোনও পলিটিক্যাল ইনটারভেনশনের প্রয়োজন নেই।’ শিল্পপতিদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘নির্ভয়ে এই রাজ্যে বিনিয়োগ করুন। কোনও অসুবিধা হবে না।’
শিল্পের জন্য ঠিক কী ভাবে জমি অধিগ্রহণ করা হবে, তা নিয়ে রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট কোনও নীতি ছিল না বলেই অভিযোগ বিজেপি নেতৃত্বের। সেটা বাম আমলে হোক কিংবা তৃণমূল জমানায়, পরিস্থিতি একটুও বদলায়নি বলেই দাবি তাঁদের। বিজেপি সরকার খুব শীঘ্রই জমি নীতি নিয়ে আসবে বলে বণিকসভায় আশ্বাস দেন শমীক। তিনি বলেন, ‘আমলা ল্যান্ড পলিসি নিয়ে আসব। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্রে যে ভাবে জমি অধিগ্রহণ হয়, হাজার একর প্রয়োজন হলে ১১১০ একর অধিগ্রহণ করে সরকার। ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট হয়ে যাওয়ার পরে অনিচ্ছুক কৃষকদের বাড়তি জমি ফিরিয়ে দেওয়া হয়।’
তবে পাঞ্জাব, হরিয়ানার মতো বাংলায় জমি অধিগ্রহণ সম্ভব কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে অনেকেরই। কারণ সেখানে একজন কৃষকের হাতে অনেক জমি রয়েছে। ফলে অধিগ্রহণ সহজ। কিন্তু বাংলায় অধিকাংশ মালিকের হাতে জমির পরিমাণ যৎসামান্য। বেশিরভাগই ভাগচাষী। ফলে একসঙ্গে অনেক কৃষককে রাজি করাতে হয়। তবে শমীকের আশ্বাসে শিল্পমহল আপাতত খুশি বলেই জানা গিয়েছে।