শুভেন্দুর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই ফাঁস মমতার ১৫ বছরের মিথ্যাচার
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক থেকেই একের পর এক বড় ঘোষণা সামনে আসছে (Vishwakarma Yojana)। আয়ুষ্মান ভারত, উজ্জ্বলা যোজনার পর এবার বাংলায় …
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক থেকেই একের পর এক বড় ঘোষণা সামনে আসছে (Vishwakarma Yojana)। আয়ুষ্মান ভারত, উজ্জ্বলা যোজনার পর এবার বাংলায় ‘পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা’ চালু করার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, আগের সরকারের আমলে আটকে থাকা প্রায় ৮ লক্ষ ৬৫ হাজার আবেদন দ্রুত কেন্দ্রের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটিরশিল্প মন্ত্রকে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শুভেন্দু সংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট বলেন এই পাওনা মমতা বন্দোপাধ্যায় দীর্ঘদিন আটকে রেখেছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলার বহু প্রান্তিক কারিগর দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। কামার, কুমোর, কুম্ভকার, স্বর্ণকার, মালাকার, তাঁতি, নাপিত-সহ একাধিক ঐতিহ্যবাহী পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষ আবেদন করলেও সেই ফাইল জেলা প্রশাসনের স্তরেই আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। নতুন সরকার সেই জট কাটিয়ে দ্রুত প্রকল্পের সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চায়।
আরও দেখুনঃ প্লে-অফের লড়াইয়ে দিল্লির সামনে কঠিন পরীক্ষা, জয় চাই পঞ্জাবেরও
‘পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা’ মূলত কেন্দ্র সরকারের একটি বিশেষ প্রকল্প, যা দেশের ঐতিহ্যবাহী কারিগর ও শিল্পীদের আর্থিক ও প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, বিশ্বকর্মা পুজোর দিন এই প্রকল্পের সূচনা করেন। দেশের প্রান্তিক ও গ্রামীণ শিল্পীদের কাজকে আধুনিকীকরণ, তাঁদের দক্ষতার উন্নয়ন এবং বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তোলাই এই যোজনার প্রধান লক্ষ্য।
বিশ্বকর্মা যোজনার অন্যতম বড় সুবিধা হল, কারিগরদের জন্য জমানতবিহীন ঋণের ব্যবস্থা। পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ১৫ হাজার টাকার টুলকিট সহায়তাও দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, কারিগরদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে। ৫ থেকে ৭ দিনের প্রশিক্ষণ চলাকালীন প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে স্টাইপেন্ড দেওয়া হয়। ডিজিটাল লেনদেন, ব্র্যান্ডিং, বিপণন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় যাতে ছোট কারিগররাও নিজেদের ব্যবসাকে বৃহত্তর বাজারে নিয়ে যেতে পারেন।
প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করার পর ১৮ মাসের জন্য ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনা সুদের ঋণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে প্রতিটি ডিজিটাল ট্রানজ্যাকশনের জন্য অতিরিক্ত প্রণোদনাও দেওয়া হয়। আবেদনকারীরা সরাসরি ‘পিএম বিশ্বকর্মা পোর্টাল’-এর মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারেন।
বর্তমানে মোট ১৮ ধরনের পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় সুবিধা পাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছেন নৌকা প্রস্তুতকারী, কামার, ছুতোর, স্বর্ণকার, চর্মকার, রাজমিস্ত্রি, ধোপা, কুমোর, মূর্তিশিল্পী, মালাকার, দর্জি ও মাছ ধরার জাল প্রস্তুতকারীরা। সরকারের মতে, এই প্রকল্প বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নতুন সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিকে দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে। আবার অনেকেই বলছেন মমতা বন্দোপাধ্যায় দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে মানুষের সঙ্গে শুধুই তঞ্চকতা করে গিয়েছেন। এছাড়াও তারা মনে করছেন দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় ছিলেন, তাঁদের অনেকেই মনে করছেন এবার হয়তো কাজের নতুন সুযোগ ও আর্থিক স্থিতিশীলতার পথ খুলে যেতে পারে।