মেক ইন ইন্ডিয়ায় ইতিহাস! ওমান থেকে সরে ভারতে এল ব্রিটানিয়ার ব্যবসা
আহমেদাবাদ: ভারতীয় উৎপাদন খাতের জন্য এক বড় সাফল্যের খবর এসেছে। (Britannia)দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এফএমসিজি কোম্পানি ব্রিটানিয়া ইন্ডাস্ট্রিজ তার উত্তর আমেরিকার সম্পূর্ণ এক্সপোর্ট ব্যবসা ওমান থেকে সরিয়ে এনেছে ভারতের …
আহমেদাবাদ: ভারতীয় উৎপাদন খাতের জন্য এক বড় সাফল্যের খবর এসেছে। (Britannia)দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এফএমসিজি কোম্পানি ব্রিটানিয়া ইন্ডাস্ট্রিজ তার উত্তর আমেরিকার সম্পূর্ণ এক্সপোর্ট ব্যবসা ওমান থেকে সরিয়ে এনেছে ভারতের গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দরে। এই সিদ্ধান্তকে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোম্পানির সূত্র জানিয়েছে, এখন থেকে বিস্কুট, ক্র্যাকার ও অন্যান্য স্ন্যাকসের যাবতীয় রফতানি মুন্দ্রা বন্দর থেকেই হবে।
এর ফলে ভারতে উৎপাদন বাড়বে, স্থানীয় কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং লজিস্টিক খরচও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। মুন্দ্রা বন্দরের আধুনিক অবকাঠামো ও দ্রুত ক্লিয়ারেন্স সুবিধা এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ব্রিটানিয়ার এই পদক্ষেপ দেখিয়ে দিচ্ছে যে, ভারতীয় কোম্পানিগুলো এখন বিশ্ববাজারে নিজেদের উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে দেশকেই বেছে নিচ্ছে।এই খবরের পাশাপাশি কোম্পানির সাম্প্রতিক আর্থিক ফলাফলও চমকপ্রদ।
আরও দেখুনঃ ‘খুনের দিন লখনৌতে ছিল রাজ!’ দাবি শুভেন্দু আপ্ত সহায়ক খুনে ধৃতের মা
গত ত্রৈমাসিকে ব্রিটানিয়া তার মুনাফায় ২১ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। মূল্যস্ফীতি, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারের চাপ সত্ত্বেও এই লাভজনক প্রবৃদ্ধি কোম্পানির শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা ও উদ্ভাবনী কৌশলের প্রমাণ দেয়। বিশেষ করে ডিজিটাল বাণিজ্যে ব্রিটানিয়া অসাধারণ সাফল্য পেয়েছে। কোম্পানির অনলাইন ব্যবসার প্রায় ৭০ শতাংশ এখন কুইক কমার্স সেগমেন্ট থেকে আসছে। ব্লিঙ্কিট, জোম্যাটো এবং সুইগির মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মাত্র ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার এই মডেল ভোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
ব্রিটানিয়ার এই সাফল্য শুধু একটি কোম্পানির গল্প নয়, বরং ভারতের এফএমসিজি সেক্টরের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত। গত কয়েক বছরে ভারতীয় কোম্পানিগুলো প্যাকেজড ফুড, স্ন্যাকস এবং বেকারি প্রোডাক্টসে বিশ্বমানের মান অর্জন করেছে। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের আওতায় সরকারের প্ল্যান্ট-অ্যান্ড-মেশিনারি স্থাপনে সহায়তা, রফতানি প্রণোদনা এবং লজিস্টিক উন্নয়ন এই ধরনের সিদ্ধান্তগুলোকে উৎসাহিত করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী কয়েক বছরে আরও অনেক বহুজাতিক ও ভারতীয় কোম্পানি তাদের উৎপাদন ও রফতানি কেন্দ্র চিন বা অন্যান্য দেশ থেকে ভারতে সরিয়ে আনবে।মুন্দ্রা বন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, ব্রিটানিয়ার এই সিদ্ধান্ত বন্দরের রফতানি ভলিউম আরও বাড়াবে। ইতিমধ্যে বন্দরটি দেশের অন্যতম বৃহত্তম কনটেইনার হ্যান্ডলিং পোর্ট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
এই স্থানান্তরের ফলে গুজরাতের শিল্পাঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।ব্রিটানিয়ার এমডি ও সিইও বরুণ বেরি বলেছেন, “ভারত আমাদের হোম মার্কেট এবং এখন রফতানিরও প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠছে। গুণগত মান, উৎপাদন দক্ষতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের উন্নতির কারণে আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ প্রোডাক্ট বিশ্ববাজারে আরও বেশি করে জায়গা করে নেবে।”