আজই গ্রেফতার হতে পারেন প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু
কলকাতা: আরও বাড়ল চাপ। আজই গ্রেফতার হতে পারেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। (Sujit Bose)সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) দফতরের সামনে সকাল থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা …
কলকাতা: আরও বাড়ল চাপ। আজই গ্রেফতার হতে পারেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। (Sujit Bose)সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) দফতরের সামনে সকাল থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। সকাল সাড়ে দশটার আগেই গাড়ি থেকে নেমে এলেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সুজিত বসু।
সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছেলে সমুদ্র বসু এবং দুজন আইনজীবী। এটি ছিল পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর দ্বিতীয়বারের হাজিরা। ভোটের আগে একাধিক তলব এড়িয়ে যাওয়ার পর কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে প্রথমবার হাজিরা দিয়েছিলেন, এবার ফের ডাক পড়ল।সুজিত বসু দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব সামলেছেন। ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তাঁর সেই সময়কালেই নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
আরও দেখুনঃ নিট ২০২৬: রাজস্থানে ‘ফাঁস’ হওয়া গেজ পেপারেই মিলল ১৪০টি প্রশ্ন!
ইডির তদন্ত বলছে, দক্ষিণ দমদমসহ উত্তর দমদম, হালিশহরের মতো একাধিক পুরসভায় টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে। শুধু দক্ষিণ দমদমেই শতাধিক পদে অনিয়মিত নিয়োগের প্রমাণ মিলেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অয়ন শীলের মতো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই কারচুপি চলত। পরে সেই সূত্র ধরে ইডি অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু অস্থাবর সম্পত্তির নথি, ডিজিটাল ডিভাইস এবং নগদ টাকা উদ্ধার করে।
সুজিত বসু দফতরে ঢোকার আগে সাংবাদিকদের সামনে সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, “আমি সাক্ষী হিসেবে এসেছি। তদন্তে সহযোগিতা করব। ব্যবসা করা অপরাধ নয়, চুরি করা অপরাধ।” কিন্তু তাঁর এই বক্তব্য অনেকের কাছেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। কারণ ইডির অভিযানে তাঁর নিজের অফিস ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানেও তল্লাশি হয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও একাধিকবার তলব করা হয়েছে। ছেলে সমুদ্র বসুকেও সমন দেওয়া হয়েছে।
এই মামলার শুরু হয়েছিল সিবিআইয়ের তদন্ত থেকে। এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির সূত্র ধরে যখন পুরসভাগুলোতে নজর পড়ে, তখনই বেরিয়ে আসে বড় ছবিটা। প্রায় ১৬টি পুরসভায় অনিয়মিত নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। ইডি বলছে, এর পেছনে বিশাল অর্থের লেনদেন হয়েছে। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের একাধিক নেতা-কর্মীর নাম জড়িয়েছে। সুজিত বসুর পাশাপাশি খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষকেও একাধিকবার তলব করা হয়েছে।
ভোটের মরশুমে সুজিত বসু প্রথমে চারবার তলব এড়িয়ে যান। নির্বাচনী প্রচারের কাজ দেখিয়ে সময় চেয়ে চিঠি দেন। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালত তাঁকে ভোটের সময় ছাড় দিলেও পরে হাজিরা দিতে বলে। ১ মে প্রথমবার প্রায় নয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর ফের ৬ মে-র তলব আসে। এবারও তিনি হাজির হয়েছেন। তদন্তকারীরা তাঁর কাছে বিভিন্ন নথি চেয়েছেন, বিশেষ করে সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য।
রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তৃণমূলের একাংশ বলছে, এটা কেন্দ্রীয় এজেন্সির রাজনৈতিক হয়রানি। বিজেপি ও অন্যান্য বিরোধীরা অবশ্য বলছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্বাভাবিক তদন্ত চলছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ স্পষ্ট। চাকরির আশায় বছরের পর বছর অপেক্ষা করা যুবক-যুবতীরা যখন দেখেন টাকা দিলে চাকরি হয়, তখন তাদের হতাশা বাড়ে। পুরসভার মতো স্থানীয় স্তরের প্রতিষ্ঠানেও যদি এমন দুর্নীতি হয়, তাহলে সাধারণ নাগরিকের বিশ্বাস কোথায় দাঁড়াবে?