ভিউয়ারশিপ পড়েছে ২৬%, কেন IPL-এ অনীহা দর্শকদের? রইল চার কারণ - 24 Ghanta Bangla News
Home

ভিউয়ারশিপ পড়েছে ২৬%, কেন IPL-এ অনীহা দর্শকদের? রইল চার কারণ

Spread the love

২০০৮ সালের সেই তপ্ত গ্রীষ্মে পথ চলা শুরু। তারপর থেকে গত দুই দশকে কেবল ভারতীয় ক্রিকেট নয়, বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্রই বদলে দিয়েছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL)। বর্তমানে ১০ দলের এই টি-টোয়েন্টি মহারণ BCCI-এর রাজকোষের প্রধান উৎস। কিন্তু টুর্নামেন্টের ১৯তম মরসুমে এসে এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। মাঠের লড়াইয়ে রানের পাহাড় তৈরি হলেও, টিভির পর্দায় দর্শক টানতে কার্যত ব্যর্থ হচ্ছে আইপিএল ২০২৬।

ভিউয়ারশিপে বড় পতন

Image of the IPL trophy

বার্ক ইন্ডিয়া (BARC India) এবং ট্যাম স্পোর্টসের (TAM Sports) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান BCCI-এর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। তথ্য অনুযায়ী, চলতি মরসুমের প্রথম ভাগে টিভি রেটিং ১৮.৮ শতাংশ এবং গড় ভিউয়ারশিপ প্রায় ২৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অর্থাৎ, মানুষ খেলা দেখলেও বেশিক্ষণ টিভির সামনে আটকে থাকছেন না। কিন্তু কেন এই অনীহা? উঠে আসছে তিনটি প্রধান কারণ।

ফ্যান্টাসি গেমিং বা টাকার বাজি নিষিদ্ধ হওয়া

Dream 11, winzo, zupee company logo
ফ্যান্টাসি গেমিং বন্ধ

গত বছর পার্লামেন্টে ‘প্রমোশন অ্যান্ড রেগুলেশন অফ অনলাইন গেমিং অ্যাক্ট, ২০২৫’ পাস হওয়ার পর ভারতে রিয়েল-মানি গেমিং প্ল্যাটফর্মগুলো নিষিদ্ধ হয়। ড্রিম ইলেভেন বা মাই ইলেভেন সার্কেলের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো আইপিএল-এর অর্থনীতির বড় অংশ ছিল। আগে বহু দর্শক স্রেফ আর্থিক লাভের আশায় বা বাজি ধরার নেশায় ম্যাচের খুঁটিনাটি দেখতেন। টাকার সেই টান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দর্শক সংখ্যার একটি বড় অংশ এবার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

অতিরিক্ত ক্রিকেটের ক্লান্তি

Lucknow Super Giants' Digvesh Singh Rathi and teammates celebrate the wicket of Chennai Super Kings' Sanju Samson during their Indian Premier League 2026 match at MA Chidambaram Stadium, in Chennai on Sunday
LSG দল

আগে আট দলের আইপিএলে ম্যাচের সংখ্যা ছিল ৬০। ২০২২ সালে দুটি নতুন দল যুক্ত হওয়ার পর ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪-এ। প্রায় দুই মাস ধরে চলা এই দীর্ঘ টুর্নামেন্ট এখন দর্শকদের কাছে একঘেয়ে হয়ে উঠেছে। বিগ ব্যাশ বা পিএসএল-এর মতো লিগগুলো বড়জোর এক মাস চলে। আইপিএল-এর এই ‘ম্যারাথন’ ফরম্যাট মাঝপথে এসে দর্শকদের ক্লান্ত করে দিচ্ছে, বিশেষ করে এপ্রিলের তীব্র গরমে যখন দীর্ঘ সময় টিভির সামনে বসে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

পাশাপাশি দুটো টুর্নামেন্টের মাঝে ব্যবধান কম হওয়ায় দর্শকরা তা ধরতে পারছেন না। যেমন বিশ্বকাপ শেষের ১২ দিনের মাথায় IPL শুরু হওয়া।

বোলারদের অসহায়তা ও একঘেয়ে ম্যাচ

Jasprit Bumrah in action during a Mumbai Indians match
জশপ্রীত বুমরা।

এক সময় ১৮০ রান আইপিএল-এ ‘উইনিং টোটাল’ হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু বর্তমানে ২০০-২৩০ রানও নিরাপদ নয়। ব্যাটিং-বান্ধব উইকেট আর ছোট বাউন্ডারির দাপটে বোলাররা এখন স্রেফ ‘দর্শক’ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। ২৬৪ রান তাড়া করে জেতার মতো ঘটনাও এখন সাধারণ হয়ে গিয়েছে। ক্রিকেটে ব্যাটার ও বোলারের মধ্যে যে সূক্ষ্ম লড়াই থাকে, তা হারিয়ে যাওয়ায় খেলাগুলো একপেশে হয়ে পড়ছে। বোলারদের এই ‘কচুকাটা’ হওয়া দেখতে দেখতে সাধারণ দর্শকরা একঘেয়েমি অনুভব করছেন।

বিশ্বের সেরা তারকাদের সমাবেশ ঘটিয়েও যদি ভিউয়ারশিপ এভাবে কমতে থাকে, তবে অদূর ভবিষ্যতে IPL-এর ব্র্যান্ড ভ্যালুতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। আপাতত BCCI-এর কাছে চ্যালেঞ্জ এই হারানো জৌলুস ফিরিয়ে আনা।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *