রাজনৈতিক তর্ক থেকে সংঘর্ষ, মৃত্যু অঞ্চল তৃণমূল সভাপতির - 24 Ghanta Bangla News
Home

রাজনৈতিক তর্ক থেকে সংঘর্ষ, মৃত্যু অঞ্চল তৃণমূল সভাপতির

Spread the love

এই সময়, পুরুলিয়া: রাজনৈতিক তর্কের জেরে ঘটা সংঘর্ষে জখম এক তৃণমূল নেতার মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পুরুলিয়ার কাশীপুরে। মৃতের নাম চিত্তরঞ্জন মণ্ডল (৬১), বাড়ি কাশীপুর থানার মণিপুর গ্রামে। বড়রা অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতিও ছিলেন তিনি। ২৪ এপ্রিল ভোটের পরদিন থেকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার রাতে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে বিজেপির দিকে। যদিও গেরুয়া শিবির একে পারিবারিক বিবাদ বলে দাবি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৪ এপ্রিল মণিপুর গ্রামের হরি মন্দিরের কাছে কাশীপুর বিধানসভা আসনে জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা চলছিল। কাশীপুর ব্লক তৃণমূলের সহ সভাপতি উজ্জ্বল রাউত অভিযোগ করেন, সেই সময়ে আলোচনারত কর্মীদের উপরে চড়াও হন কয়েকজন বিজেপি সমর্থক।

বচসা চলাকালীন জয়দেব ও মহাদেব মণ্ডল নামে দুই ব্যক্তি একটি কাঠ দিয়ে চিত্তরঞ্জন মণ্ডলের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এই সংঘর্ষে চিত্তরঞ্জন ছাড়াও তাঁর আরও তিন আত্মীয় তথা দলীয় কর্মী জখম হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিত্তরঞ্জনকে দুর্গাপুরে স্থানান্তরিত করা হলে সেখানে তাঁর মাথায় অস্ত্রোপচার হয়, কিন্তু জ্ঞান ফেরেনি। বুধবার রাতে শেষ পর্যন্ত লড়াই থামে তাঁর। ঘটনায় জখম অন্য এক কর্মী দুর্গাদাস মণ্ডল বর্তমানে কলকাতার এমআর বাঙুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর চোখের হাড় ভেঙে যাওয়ায় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন বলে জানা গিয়েছে।

তৃণমূল প্রার্থী সৌমেন বেলথরিয়া এবং উজ্জ্বল রাউত উভয়েই এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দাবি করেছেন যে, এলাকায় গত ১৫ বছর ধরে রাজনৈতিক হিংসার কোনও জায়গা ছিল না। তাঁদের মতে, চিত্তরঞ্জন মণ্ডল অত্যন্ত নির্বিবাদী মানুষ ছিলেন এবং তাঁর এই মৃত্যু অনভিপ্রেত।

অন্য দিকে, এলাকার বিজেপি বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদা সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, এটি নিছকই একটি পারিবারিক ঝামেলার ফল। তাঁর দাবি, ওই পরিবারের এক সদস্য সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় পরিবারের ভিতরে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ ছিল, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই সংঘর্ষে। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই বলেই তিনি মনে করেন।

পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাঁদের খোঁজ চলছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূল মামলার সঙ্গে এ বার খুনের ধারাও যুক্ত করা হবে। শুক্রবার আসানসোলে ফরেনসিক ময়নাতদন্ত হওয়ার পরে দেহটি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার জেরে মণিপুর গ্রাম ও সংলগ্ন এলাকার পরিবেশ থমথমে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *