মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা হতেই খুশিতে মাতল শুভেন্দুর পাড়া! কোন পথে এই উত্থান
পূর্ব মেদিনীপুর: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। (Suvendu Adhikari)দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াই, আন্দোলন, দলবদল এবং একাধিক নাটকীয় মোড় পেরিয়ে অবশেষে বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হলেন শুভেন্দু …
পূর্ব মেদিনীপুর: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। (Suvendu Adhikari)দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াই, আন্দোলন, দলবদল এবং একাধিক নাটকীয় মোড় পেরিয়ে অবশেষে বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপি বিধায়ক দলের বৈঠকের পর তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি। শুভেন্দুর বাড়ির সামনে শুরু হয়ে যায় গেরুয়া আবিরের উৎসব। অনেকটা অকাল দোলের মতোই রঙে রঙে ভরে ওঠে গোটা এলাকা। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের দাবি, বাংলায় “পরিবর্তনের নতুন অধ্যায়” শুরু হল।
#WATCH | West Bengal: Celebrations near the residence of Suvendu Adhikari, in Contai, Purba Midnapore.
He has been elected as the leader of BJP Legislative Party in West Bengal and is set to be the new Chief Minister of the State. pic.twitter.com/w0zsZc2HdA
— ANI (@ANI) May 8, 2026
কাঁথিতে শুভেন্দুর বাড়ির সামনে সকাল থেকেই জড়ো হতে শুরু করেছিলেন সমর্থকরা। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা হতেই বাজি, ঢাক, গেরুয়া আবির এবং মিষ্টি বিতরণে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। বহু মানুষ ‘বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে শুভেন্দুকে স্বাগত জানান। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বাংলার রাজনীতিতে এ এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
আরও দেখুনঃ আগামীকাল শপথের পরেই কালীঘাটে যাবে ইলিশ-চিংড়ি
শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯৫ সালে। সেই সময় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে কাঁথি পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেস গঠিত হলে বাবা শিশির অধিকারীর সঙ্গে সেই নতুন দলে যোগ দেন শুভেন্দু। ধীরে ধীরে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।
২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন শুভেন্দুর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় বলে মনে করা হয়। জমি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে তিনি সারা বাংলায় পরিচিতি পান। সেই আন্দোলনই পরবর্তীতে বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। নন্দীগ্রামের আন্দোলনের পর শুভেন্দুর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে থাকে।
২০০৯ সালে তমলুক লোকসভা কেন্দ্র থেকে সিপিআইএম নেতা লক্ষ্মণ শেঠকে হারিয়ে প্রথমবার সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ২০১৪ সালেও একই কেন্দ্র থেকে জিতে নিজের রাজনৈতিক শক্তি আরও মজবুত করেন। ২০১৬ সালে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় পরিবহণ, সেচ ও জলসম্পদ দপ্তরের দায়িত্ব পান।
তবে সময়ের সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। অবশেষে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে নাটকীয়ভাবে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। অমিত শাহের উপস্থিতিতে তাঁর গেরুয়া শিবিরে যোগদান সেই সময় জাতীয় রাজনীতিতেও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে জাতীয় রাজনীতিতেও শিরোনামে উঠে আসেন শুভেন্দু। সেই জয়ের পর তিনি ‘জায়ান্ট কিলার’ নামে পরিচিত হন এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পান। এরপর গত কয়েক বছরে তিনি বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে বাংলার বিভিন্ন ইস্যুতে সরব থেকেছেন।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর অবশেষে ৮ মে শুভেন্দু অধিকারীর নাম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে বাংলায় প্রথমবার বিজেপির সরকার গঠনের পথও আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার হল। এখন নজর আগামীকালের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের দিকে। রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বাংলার রাজনীতির ক্ষমতার সমীকরণেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।