গেরুয়া সরকার এলেই শুরু হবে পুশব্যাক! উদ্বেগে বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ঢাকা: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিপুল জয়ের পর বাংলাদেশে উদ্বেগের ছায়া। (border pushback)বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রকাশ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, ভারতের সীমান্তবর্তী বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলো যেন কোনো ‘পুশব্যাক’-এর ঘটনা …
ঢাকা: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিপুল জয়ের পর বাংলাদেশে উদ্বেগের ছায়া। (border pushback)বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রকাশ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, ভারতের সীমান্তবর্তী বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলো যেন কোনো ‘পুশব্যাক’-এর ঘটনা না ঘটায়। একই সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB)-কে সীমান্তে উচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, “আমি আশা করি এমন কোনো ঘটনা ঘটবে না।”
তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিজিবিকে সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি। এই বক্তব্যের পরই দুই দেশের সীমান্ত ইস্যু আবার নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, অসম সহ সীমান্তবর্তী এলাকায় জনসংখ্যার গঠন বদলে যাওয়ার অভিযোগ বারবার উঠেছে। বিজেপি নেতারা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন যে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ফিরিয়ে দেওয়া এবং সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করা তাদের অগ্রাধিকার।
আরও দেখুনঃ বেআইনি সম্পত্তির অভিযোগে নজরে কলকাতা পুলিশের ডিসি
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এই ইস্যু ছিল বিজেপির অন্যতম প্রধান প্রচারের অংশ। নির্বাচনে জয়ের পর এখন সেই অবস্থান আরও দৃঢ় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।বাংলাদেশের এই উদ্বেগকে অনেকে ‘দ্বিচারিতা’ বলে সমালোচনা করছেন। যে দেশটি দীর্ঘদিন ধরে ভারত থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিয়ে এসেছে বলে অভিযোগ, আজ সেই দেশই পুশব্যাকের ভয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়ও স্পষ্ট জানিয়েছে যে, অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন।
ভারতে এখনও হাজার হাজার নাগরিকত্ব যাচাইয়ের মামলা বাংলাদেশের কাছে পেন্ডিং রয়েছে।সীমান্ত এলাকায় বাস করা সাধারণ মানুষের মধ্যে এই উত্তেজনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অসম ও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিনের অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে স্থানীয় সংস্কৃতি, ভাষা ও অর্থনীতির ওপর চাপ পড়েছে। জমি, চাকরি ও সম্পদের ওপর অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দখল নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
বিজেপির জয়ের পর এখন ‘ভারত প্রথম’ নীতির আওতায় সীমান্ত সুরক্ষা আরও কঠোর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের এই প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে দিচ্ছে যে, ভারতের নতুন সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে। পুশব্যাকের মতো পদক্ষেপ যদি শুরু হয়, তাহলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটি কোনো বিরোধিতা নয়, বরং নিজের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়।