SP অফিস ঘেরাও বিজেপির, ঘরছাড়া বহু তৃণমূল নেতা-কর্মী
এই সময়, উলুবেড়িয়া: শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ককে খুনের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল হাওড়ার পাঁচলা। খুনিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং এলাকায় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবিতে বৃহস্পতিবার হাওড়া জেলা গ্রামীণ পুলিশ সুপারের অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভদেখালেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। এ দিন পাঁচলার বিজেপি নেতা রঞ্জন পালের নেতৃত্বে বহু বিজেপি কর্মী পুলিশ সুপারের অফিসের সামনে জড়ো হন। সেখানে ধর্নায় বসে তাঁরা পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একাধিক দুষ্কৃতী অপরাধমূলক কাজ চালিয়ে গেলেও, পুলিশ কার্যকরী ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বিক্ষোভ চলাকালীন শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহায়ক হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও উঠে আসে। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি, পাঁচলা এলাকায় সক্রিয় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধেও অবিলম্বে অভিযান চালানোর দাবি জানানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশবাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে | বিক্ষোভ ও স্লোগান। পরে বিজেপি প্রতিনিধিদল পুলিশ সুপারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। যদিও এই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ভোট পরবর্তী অশান্তির আবহে হাওড়া গ্রামীণের একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির কার্যালয়ে এখনও নিয়মিত ভাবে যাচ্ছেন না পদাধিকারীরা। জেলার অধিকাংশ পঞ্চায়েত সমিতিই তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকলেও, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় অনেক জনপ্রতিনিধিই এখনও দপ্তরমুখো হননি বলে সূত্রের খবর। অনেকেই গ্রামীণ এলাকার বাড়ি ছেড়ে হাওড়া শহরে বা কলকাতার বাড়িতে প্রায় আত্মগোপন করে রয়েছেন। এই অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের জয়ী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও। সূত্রের খবর, তাঁর এ ভাবে স্থান ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায়, দলীয় কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কর্মীদের অভিযোগ, নির্বাচনের ফল ঘোষণর পর থেকে বিধায়ককে এলাকায় দেখাই যায়নি। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে ধাপে ধাপে সবাই নিজ নিজ কার্যালয়ে ফিরবেন বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।
ভোট গণনার দিন এবং তার পরের দিন হাওড়া গ্রামীণ এলাকার বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে বিজেপির দলীয় পতাকা টাঙিয়ে দেওয়ার অভিযোগ এসেছে। পরে কোথাও দলীয় কর্মীরা তা খুলে নিলেও, বেশ কিছু জায়গায় এখনও খোলা হয়নি। কোথাও কোথাও বিজেপি নেতৃত্ব সরকারি অফিস ও তৃণমূলের দলীয় অফিসের তালা খুলে দেন। পাশাপাশি, ভোট গণনার দিন ফল প্রকাশের পরে উলুবেড়িয়া পুরসভার মেন ফটকের গেটের উপরে বিজেপির পতাকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়। এমনকী পুরসভার উপরে প্রধান বিল্ডিংয়ের সামনে বিশ্ববাংলার লোগো ভাঙার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ। বাগনান কলেজের গেটের উপরে এবিভিপির পতাকা টাঙানো হয়। বাগনান কলেজে বছর ৫০ ধরে ছাত্র পরিষদ ও পরবর্তীকালে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের একচ্ছত্র আধিপত্য।
সেই জায়গায় এবিভিপির পতাকা টাঙানোর পাশাপাশি, ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেওয়া হয়। উলুবেড়িয়া দক্ষিণ বিধানসভার হাটগাছা এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে তালা দিয়ে চলে যান বিজেপির সমর্থকরা। এর ফলে পঞ্চায়েতে সরকারি কর্মীরা অফিসে প্রবেশ করতে পারেননি। এই খবর আসার পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার তালা খুলে দেওয়া হয়। সরকারি কর্মীরা প্রবেশ করলেও, পঞ্চায়েতের প্রধান ও জনপ্রতিধিরা এ দিন ওই পঞ্চায়েতে যাননি।
দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন পাঁচলার বিজেপি নেতৃত্ব। পাঁচলায় বিজেপির প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। তবে রাজ্য ক্ষমতা বদলের পরে পাঁচলার শুভরআড়া পঞ্চায়েতের কার্যালয়ে ও তৃণমূলের পাঁচলা বিধানসভা কেন্দ্রের কার্যালয়ে তালা দিয়ে বিজেপির পতাকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার খবর পেয়ে বিজেপির হাওড়া সদর কমিটির নেতা মোহিতলাল ঘাঁটি তাঁর দলের কর্মীদের নিয়ে ওই এলাকায় গিয়ে শুভরআড়া পঞ্চায়েত এবং তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে দেন। চাবি সংশ্লিষ্টদের তুলে দেন তিনি।