ডিউটি করে ওয়েলফেয়ার, ফাঁকিবাজি রুখতে নির্দেশ?
এই সময়: কর্মীদের ওয়েলফেয়ারের নামে কাজে ফাঁকি দেওয়া যাবে না বলে বুধবার নোটিস জারি করে জানিয়ে দিল রাজ্য পুলিশ। নোটিসে বলা হয়েছে, ‘পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড’–এ কেউ থাকলেও, তাঁকে আগে পুলিশ হিসেবে তাঁর ডিউটি করতে হবে। সেই দায়িত্ব সামলে তবে ওয়েলফেয়ারের কাজ। রাজ্য পুলিশের তরফে ডিআইজি (প্ল্যানিং ও ওয়েলফেয়ার) সব জেলার পুলিশ সুপার, আইজি, ডিআইজি–সহ কমিশনার এবং সব বিভাগের পদাধিকারীদের সেই বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে করণীয় সম্পর্কে বাহিনীকে সতর্ক করা হয়েছে। এই নির্দেশ প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ডের তরফে আর একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তাতে প্রায় একই বার্তা দিয়ে বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত সব পদাধিকারীকে নিজেদের ডিউটি আগে করতে হবে বলে বার্তা দেওয়া হয়।
এই বিবৃতি জারির পরেই এ দিন বোর্ডের মাথায় থাকা দুই অবসরপ্রাপ্ত অফিসারের একজন, বিজিতাশ্ব রাউতকে নোটিস দিয়ে তলব করা হয় কলকাতার লর্ড সিনহা রোডে গোয়েন্দা দপ্তরের হেড অফিসে। আজ, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় তাঁকে যেতে বলা হয়েছে। বোর্ডের আর এক আহ্বায়ক, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নামে বালি পাচার মামলায় হালফিলে লুক আউট নোটিস জারি করা হয়েছে।
রাজ্য পুলিশের দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিভিন্ন জেলা বা মহকুমায় যে সব পুলিশকর্মী ডেভেলপমেন্ট, ওয়েলফেয়ার ও গ্রিভান্স সেলের দায়িত্ব ছিলেন, তাঁদের আগে নিজেদের রেগুলার ডিউটি করতে হবে। ডিউটি টাইমের পরে বাড়তি হিসেবে করতে হবে ওয়েলফেয়ারের কাজ।
বাম আমলে আমলে কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের দু’টি পৃথক সংগঠন ছিল — ‘নন গেজেটেড পুলিশ কর্মচারী সমিতি’ ও ‘পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন’। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে পুলিশের যাবতীয় সংগঠন বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সরকারের সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ হয় হাইকোর্টে। পুলিশের সংগঠন করার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে রায় দেয় সিঙ্গল বেঞ্চ। সেই রায় ডিভিশন বেঞ্চে চ্যালেঞ্জ করে সরকার। মামলা এখনও ঝুলে রয়েছে।
এরই মধ্যে তৃণমূল সরকার পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড তৈরি করে। শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নেতৃত্বে গোটা রাজ্যে ওয়েলফেয়ার বোর্ডের নামে কমিটি গঠন হয়। অভিযোগ, শাসকদলের ধামাধরা পুলিশকর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয় বোর্ডে। আবার বোর্ডের কাজকর্মের নামে বেআইনি ভাবে নানা অছিলায় টাকা তোলার অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ রয়েছে পুলিশের নিচুতলার। এমনকী বোর্ডের কাজের নামে জেলায় জেলায় এক দল পুলিশকর্মীর ডিউটি না করা এবং দিঘা–মন্দারমণিতে ঘুরে বেড়ানো নিয়ে ভূরি ভূরি অভিযোগ জমেছিল নিচুতলার মধ্যে। সরকার বদল হতেই সেই ক্ষোভে গুরুত্ব দিয়েই এমন সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।