টাটাদের ৭৬৬ কোটি মেটানোয় স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের, ৮ সপ্তাহের স্বস্তি রাজ্যের
কলকাতা: সিঙ্গুর জমি বিতর্কে টাটা মোটরসকে মোটা অংকের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায়ের একক বেঞ্চ ট্রাইব্যুনালের সেই পুরনো নির্দেশের ওপর ৮ …
কলকাতা: সিঙ্গুর জমি বিতর্কে টাটা মোটরসকে মোটা অংকের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায়ের একক বেঞ্চ ট্রাইব্যুনালের সেই পুরনো নির্দেশের ওপর ৮ সপ্তাহের স্থগিতাদেশ জারি করেছে। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে রাজ্য সরকারকে সমপরিমাণ অর্থের ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি জমা দিতে হবে।(Singur Tata Motors compensation case)
২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর একটি ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দিয়েছিল যে, সিঙ্গুরে কারখানা না হওয়ায় টাটা গোষ্ঠীকে ৭৬৫ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে। শুধু তাই নয়, ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে বকেয়া টাকা মেটানো পর্যন্ত ১১ শতাংশ হারে সুদ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই নির্দেশের পরই টাটা গোষ্ঠী ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে বিবৃতি দিয়ে জয়ের কথা জানায়।
আইনি লড়াই ও রাজ্য সরকারের অবস্থান
ট্রাইব্যুনালের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। রাজ্যের অভিযোগ ছিল, ট্রাইব্যুনালের বিচারকের সঙ্গে টাটাদের ঘনিষ্ঠতা থাকায় রায়টি পক্ষপাতদুষ্ট। হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট, উভয় জায়গাতেই রাজ্যের এই প্রাথমিক আবেদন খারিজ হয়ে যায় এবং মামলাটি পুনরায় হাইকোর্টের একক বেঞ্চে শুনানির জন্য ফেরত আসে। দীর্ঘ শুনানির পর বৃহস্পতিবার এই স্থগিতাদেশ দিল আদালত।
রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে বড় মোড়
রাজ্যের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। গণনার ট্রেন্ড অনুযায়ী বিজেপি সরকার গড়তে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে। ঠিক এই সন্ধিক্ষণেই সিঙ্গুর মামলার এই স্থগিতাদেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ও আইনি বিশেষজ্ঞরা। আট সপ্তাহ পর ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি জমার নিরিখেই ক্ষতিপূরণ ফেরানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আদালত।
ফিরে দেখা সিঙ্গুর বিতর্ক
২০০৬ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সিঙ্গুরে ন্যানো কারখানার জন্য টাটাদের ১০০০ একর জমি দিয়েছিলেন। জমি আন্দোলন ও প্রবল রাজনৈতিক বিরোধিতার জেরে প্রকল্প ব্যর্থ হয় এবং টাটারা পশ্চিমবঙ্গ ত্যাগ করে। পরবর্তী সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার জমি ফেরত চাইলেও টাটা গোষ্ঠী বিনিয়োগ করা অর্থের ক্ষতিপূরণ দাবি করে। সেই বিবাদই দীর্ঘ দেড় দশক ধরে আইনি লড়াইয়ের রূপ নিয়েছে।