মমতার মুখে ছিল সেক্যুলারিজমের মুখোশ! বিস্ফোরক ওআইসি
হায়দরাবাদ: অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM) প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়েইসি (Asaduddin Owaisi)পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক বড় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাইরের রাজ্যে যে ‘লিবারেল ও সেক্যুলার’ ইমেজ …
হায়দরাবাদ: অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM) প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়েইসি (Asaduddin Owaisi)পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক বড় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাইরের রাজ্যে যে ‘লিবারেল ও সেক্যুলার’ ইমেজ তৈরি হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভুল। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, মমতা মুসলিম সম্প্রদায়কে শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করেছেন, নাগরিক হিসেবে কখনোই তাদের সঠিক মর্যাদা দেননি।
তাঁর আমলে বিপুল দুর্নীতি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন ওয়েইসি।হায়দরাবাদে এক অনুষ্ঠানে ওয়েইসি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের বাইরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে লিবারেল ও সেক্যুলার ইমেজ তৈরি হয়েছে, তা ভুল। তিনি মুসলিমদের শুধু ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে শোষণ করেছেন, নাগরিক হিসেবে তাদের দেখেননি। তাঁর প্রশাসনে বিপুল দুর্নীতি হয়েছে। এসআইআরও একটা ফ্যাক্টর, কিন্তু যদি তৃণমূল মুসলিমদের নাগরিক হিসেবে দেখত এবং শুধু ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে নয়, তাহলে আরও অনেক বেশি উন্নয়ন হত।”
আরও দেখুনঃBrahmos ভারত কি ভিয়েতনামকে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করবে?এভাবে হতে পারে চুক্তি
ওয়েইসির এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে। দীর্ঘ ১৩ বছরের তৃণমূল শাসনকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতির জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। মাদ্রাসা শিক্ষা, ইফতার পার্টি, সংখ্যালঘু স্কলারশিপসহ নানা প্রকল্পের মাধ্যমে মুসলিম ভোট তিনি নিজের দিকে ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু ওয়েইসির অভিযোগ, এসবের আড়ালে সত্যিকারের উন্নয়ন হয়নি। মুসলিম যুবকদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কোনো বড় অগ্রগতি দেখা যায়নি।
বরং তাদের ভোটের রাজনীতিতে ব্যবহার করেই ক্ষমতা ধরে রাখা হয়েছে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ওয়েইসির মন্তব্য তৃণমূলের জন্য অস্বস্তিকর। কারণ এতদিন মমতাকে সংখ্যালঘুদের ‘মসিহা’ হিসেবে দেখানো হতো। কিন্তু এবার নিজের সম্প্রদায়ের এক প্রভাবশালী নেতার কাছ থেকেই এই সমালোচনা আসায় চিত্রটা অন্যরকম হয়ে গেছে। ওয়েইসি আরও বলেছেন, দুর্নীতি যদি না থাকত এবং মুসলিমদের প্রকৃত নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হতো, তাহলে বাংলার মুসলিম সমাজ আজ আরও অনেক এগিয়ে থাকত।
স্থানীয় মুসলিম সমাজের একাংশের মধ্যে এই মন্তব্য নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে বলছেন, সত্যি কথা বলা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা দেখেছেন যে, ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি আর ভোটের পর উন্নয়নের নামে শুধু প্রতারণা। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুরের মতো মুসলিম প্রধান এলাকায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অবস্থা এখনও খুবই খারাপ।