বাংলায় ভোটে কড়া নজর পাকিস্তান থেকে আমেরিকার, কী বলছে NYT, ডন?
পশ্চিমবঙ্গে ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটেছে। ২০৬টি আসনে জিতে অভাবনীয় জয় পেয়েছে BJP। গোটা দেশের চোখ ছিল এই হাইভোল্টেজ নির্বাচনের দিকে। তবে শুধু গোটা দেশই নয়, জাতীয় রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে এই ভোটের ফলাফল এখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেরও শিরোনামে উঠে এসেছে। আমেরিকান দৈনিক সংবাদপত্র ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ থেকে শুরু করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি’, কিংবা পাকিস্তানের ‘ডন’— সবারই চোখ ছিল বাংলার ভোটের দিকে। ফলাফল নিয়ে কী বলল তারা?
মোদীর ‘লিটমাস টেস্ট’
‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ (NYT)-এর ভাষ্যে এই নির্বাচন ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘লিটমাস টেস্ট’ । তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই জয়ের প্রভাব শুধুমাত্র রাজ্যেই আটকে থাকবে না। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে জাতীয় স্তরেও BJP-কে শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের হারকে আঞ্চলিক রাজনৈতিক শক্তিগুলির জন্য বিশাল ধাক্কা বলা হয়েছে।
‘তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য’
অন্যদিকে, ‘বিবিসি’-র প্রতিবেদনে বাংলার এই জয়কে মোদীর ১২ বছরের শাসনে অন্যতম ‘তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য’ বলা হয়েছে। বিবিসি-র মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের মতো গভীর সাংগঠনিক পরিকাঠামো না থাকা সত্ত্বেও BJP-র এই জয় বিস্ময়কর। অসমের বিধানসভা নির্বাচনে দুর্দান্ত ফলাফল করে ক্ষমতা ধরে রাখার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার ক্ষমতা দখল, সব মিলিয়ে পূর্ব ভারতে BJP-র রাজনৈতিক যাত্রা এক পূর্ণতা পেল বলে জানিয়েছে তারা।
বিরোধীদের জন্য বড় ধাক্কা
ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য গার্ডিয়ান’ BJP-র এই জয়কে বিরোধী শিবিরের জন্য ‘হতাশাজনক’ বলেছে। তারা লিখেছে, দেশজুড়ে BJP-র দাপটের মধ্যেও পশ্চিমবঙ্গ ছিল বিরোধী-শাসিত শেষ দুর্গগুলির মধ্যে অন্যতম। তবে দক্ষিণ ভারত এখনও BJP-র কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গিয়েছে, বলে জানিয়েছে গার্ডিয়ান।
শক্তিশালী হলেন মোদী
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ‘রয়টার্স’-এর মতে, BJP-র এই বিপুল সাফল্যের পিছনে রয়েছে মোদীর অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের একত্রিত করার কৌশল। পাশাপাশি বিরোধীদের তুলনায় BJP-র অর্থনীতির জোর যে অনেকটাই বেশি, তা-ও উল্লেখ করেছে তারা।
দীর্ঘ প্রতীক্ষায় সাফল্য
‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ লিখেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন মোদীর অন্যতম কট্টর সমালোচক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে BJP তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারল বলে লিখেছে তারা। তাদের মতে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে জোটের উপরে নির্ভরশীল হওয়ার পরে, নিজের তৃতীয় মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে দাঁড়িয়ে এই জয় মোদীর রাজনৈতিক অবস্থানকে অভাবনীয় দৃঢ়তা দিল।
পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া
প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমেরও কড়া নজর ছিল বঙ্গ নির্বাচনের দিকে। সংবাদ সংস্থা AFP-র একটি রিপোর্ট উদ্ধৃত করে পাক দৈনিক সংবাদপত্র ‘ডন’ জানিয়েছে, দেশে বেকারত্ব বৃদ্ধি থেকে শুরু করে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির মতো নানা অর্থনৈতিক ও বিদেশি নীতি সংক্রান্ত যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন মোদী, এই রেকর্ড জয়ের ফলে সেগুলি মোকাবিলায় আরও বেশি শক্তিশালী হলেন তিনি।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মতে, বাংলার পাশাপাশি অসমে BJP-র বিরাট নির্বাচনী সাফল্য, শুধুমাত্র রাজ্যের ক্ষেত্রে নয়, আগামী লোকসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।