জলন্ধরে বিএসএফ সদর দপ্তরের কাছে জোরাল বিস্ফোরণ
রাতের বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এলাকা, স্কুটার আগুনে ভস্মীভূত। দুর্ঘটনা না নাশকতা, সবদিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও ফরেনসিক দল।
জলন্ধর, পাঞ্জাব: জোরাল বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল পঞ্জাবের জলন্ধরে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এরসদর দপ্তর সংলগ্ন এলাকা৷ মঙ্গলবার রাতে সদর দপ্তরের কাছে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে। এই বিস্ফোরণের পর একটি স্কুটার সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। ঘটনার জেরে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সুত্রে খবর, বিএসএফ সদর দপ্তরের সন্নিকটে হঠাৎই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে স্কুটারটিতে আগুন ধরে যায় এবং দ্রুত পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আশেপাশের লোকজন সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও দমকল বাহিনীকে খবর দেন।
দমকল কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে বিস্ফোরণের শব্দ এবং আগুনের দৃশ্য দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জলন্ধর পুলিশ কমিশনার ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছি। কোনও দিক উপেক্ষা করা হচ্ছে না। তদন্ত চলছে। যত তথ্য পাওয়া যাবে, তা জানানো হবে।”
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, স্কুটারটিতে আগুন লেগে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত কোনও ঘটনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সমস্ত সম্ভাবনা মাথায় রেখে তদন্ত করছে। ফরেনসিক টিমও ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেছে।
বিএসএফ সদর দপ্তরের কাছে এই ধরনের ঘটনা ঘটায় স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আশেপাশের লোকজন এখনও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। অনেকে জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই জোরালো ছিল যে আশপাশের বাড়িঘর কেঁপে উঠেছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, তারা সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষীদের বয়ান এবং অন্যান্য প্রমাণাদি সংগ্রহ করছে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জলন্ধরের মতো শহরে বিএসএফ সদর দপ্তরের কাছে বিস্ফোরণের ঘটনা গুরুতর। এটি দুর্ঘটনাজনিত হতে পারে আবার পরিকল্পিত কিনা, দুটি সম্ভাবনাই তদন্ত করা হচ্ছে। পাঞ্জাব পুলিশ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পুলিশ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে আসতে চাইছে না।