আইনি যুদ্ধে একের পর এক হারে আস্থা ভঙ্গ জনতার
তার একটা বড় কারণ, বাংলার ‘সার’ মামলার শুনানিতে যতই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে হাজির হয়ে তাঁর যুক্তি পেশ করুন না–কেন, এই মামলার প্রায় প্রত্যেক শুনানিতে হোঁচট খেতে দেখা গিয়েছে রাজ্যের শাসকদল ও সরকারের আইনজীবীদের। এমনকী, রাজ্যের আইনজীবীরা যে ভাবে সওয়াল করেছিলেন, তার ভিত্তিতেই ‘অ্যাজুডিকেশনে’র বিচারের জন্য বিচারকদের নিয়োগ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট— যা আখেরে তৃণমূলের পরিকল্পনাকেই জোরালো ধাক্কা দিয়েছে। কারণ, জুডিশিয়াল অফিসারদের বিচারেই প্রায় ২৭ লক্ষ ‘অ্যাজুডিকেটেড’ ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল এবং সেটা মূলত দুই ২৪ পরগনা, মালদা, মুর্শিদাবাদের মতো জেলা থেকে, যেখানে জোড়াফুলের ভোটব্যাঙ্ক মজবুত ছিল। এ ছাড়া মালদায় মোথাবাড়িতে বিচারকদের ঘেরাও করে বিক্ষোভের ঘটনাতেও সুপ্রিম কোর্টে মুখ পুড়েছে রাজ্যের। তারও আগে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত মামলা হোক অথবা ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত মামলাতেও রাজ্য সরকার কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে কার্যত লেজেগোবরে হয়েছে। যেমন মুখ পুড়েছে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক মামলা অথবা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরে রেকর্ড সংখ্যক আইএএস–আইপিএসের বদলি মামলা অথবা ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে রাজ্য পুলিশকে রাখার আর্জি জানাতে গিয়েও। ডিএ অথবা ওবিসি সংরক্ষণ মামলায় ধাক্কা খাওয়ার রেশ পড়েছে রাজ্য সরকারি কর্মী, তাঁদের পরিবার এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির ভোটারদের মধ্যে।