পার্টিকর্মী থেকে প্রার্থী, ফলের আগে যেন পরীক্ষার্থীর উদ্বেগ - 24 Ghanta Bangla News
Home

পার্টিকর্মী থেকে প্রার্থী, ফলের আগে যেন পরীক্ষার্থীর উদ্বেগ

Spread the love

প্রদীপ চক্রবর্তী, চুঁচুড়া

কেউ সারা বছর দলের কর্মী হয়ে কাজ করেন। কেউ আবার দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলেছেন। কেউ দলীয় প্রার্থীর ইলেকশন এজেন্ট হয়েছেন। কেউ স্রেফ দলীয় প্রার্থীর জন্য বিভিন্ন ভোটে মিটিং করে ভোট চেয়েছেন। শাসক থেকে বিরোধী দলে দায়িত্ব সামলানো একঝাঁক পার্টিকর্মী এ বারের বিধানসভা ভোটে প্রথম বার প্রার্থী হয়ে লড়াইয়ে নেমেছেন। আজ, সোমবার ভোটের ফল প্রকাশ নিয়ে নতুন প্রার্থীরা জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হলেও, জীবনে প্রথম বার মাধ্যমিক দেওয়া পড়ুয়ার মতো রেজাল্ট বেরনোর আগে বাড়তি উত্তেজনা অনুভব করছেন বলে সবাই একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন।

ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি করার সুবাদে দলের শাখা সংগঠনের দায়িত্ব সামলেছেন চুঁচুড়া বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী সুবীর নাগ। হুগলি বিজেপির সাংগঠনিক সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন। ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে হুগলি কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের ইলেকশন এজেন্ট ছিলেন সুবীর নাগ। মূলত জেলার সাংগঠনিক সভাপতির কাঁধে ভর করেই লোকসভা নির্বাচনে জিতে গিয়ে বাজিমাৎ করেন লকেট। প্রথম বার বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হয়েছেন সুবীর। চুঁচুড়া কেন্দ্রে তাঁর মূল লড়াই তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্যর সঙ্গে। যদিও এই কেন্দ্রে ফরওয়ার্ড ব্লক ও কংগ্রেসের প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোট গণনার কয়েক ঘণ্টা আগে সুবীর নাগ বলেন, ‘জিতব নিশ্চিত। তাই কত বেশি ভোটে জিতব, সেই ফল নিয়ে একটা উত্তেজনা আছে। আসলে যে যত নিশ্চিত হোক না কেন, ফল নিয়ে সবার একটা বাড়তি আগ্রহ থাকে।’

পার্টির হোলটাইমার হয়ে দলের নানাবিধ কর্মসূচি থেকে দলের হয়ে অর্থ সংগ্রহ, সব কিছুতেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন শ্রীরামপুর কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী নবনীতা চক্রবর্তী। গত লোকসভা নির্বাচনে শ্রীরামপুর কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী দীপ্সিতা ধরের ইলেকশন এজেন্ট ছিলেন নবনীতা। সাংগঠনিক দক্ষতার সঙ্গে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অল্পবয়সি নবনীতা। এ বার শ্রীরামপুর কেন্দ্রে সিপিএম নবনীতাকে বাজি রেখে ভোটের খেলা জমিয়ে দিয়েছে।

হেভিওয়েট নেতাদের সঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে নেমে ফলের অপেক্ষায় থাকা নবনীতা বলেন, ‘আমাদের হারানোর কিছু নেই। আমরা মানুষের জন্য পথে নেমে লড়াই করি। তাই, ভোটের ফল নিয়ে বাড়তি টেনশন নেই।’ ‘নো ভোট টু বিজেপি’ ক্যাম্পেনার হিসেবে রাজনীতির ময়দানে চার বছর আগে উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন শ্রীরামপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তন্ময় ঘোষ। দামি কর্পোরেট সংস্থার মোটা বেতনের চাকরি ছেড়ে, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে সাড়া দিয়ে তৃণমূলে যোগ দেন তন্ময়। কর্মঠ সংগঠক তন্ময় দলের পর্যবেক্ষকের

দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সঙ্গে দলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রিয় পাত্র হয়ে ওঠেন। এ বারে তৃণমূলের দুর্গ শ্রীরামপুর কেন্দ্রে তন্ময় ঘোষকে প্রথম বার প্রার্থী করেছে শাসকদল। এই কেন্দ্রে পালা বদলের আগে থেকেই দীর্ঘদিন বিধায়ক ছিলেন সুদীপ্ত রায়। তারুণ্যকে প্রাধান্য দিয়ে এ বারে প্রার্থী হয়েছেন তন্ময়। ফল প্রকাশের আগে তন্ময় বলেন, ‘জীবনে প্রথম মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার পরে ফল প্রকাশের দিন যে রকম মনে হতো, এখনও সে রকম মনে হচ্ছে। মানুষ আমাকে জিতিয়ে এনে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করবেন। আমি অনুভূতিসম্পন্ন একজন মানুষ। তাই শরীর-মনে দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সঙ্গে দলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রিয় পাত্র হয়ে ওঠেন। এ বারে তৃণমূলের দুর্গ শ্রীরামপুর কেন্দ্রে তন্ময় ঘোষকে প্রথম বার প্রার্থী করেছে শাসকদল। এই কেন্দ্রে পালা বদলের আগে থেকেই দীর্ঘদিন বিধায়ক ছিলেন সুদীপ্ত রায়। তারুণ্যকে প্রাধান্য দিয়ে এ বারে প্রার্থী হয়েছেন তন্ময়।

ফল প্রকাশের আগে তন্ময় বলেন, ‘জীবনে প্রথম মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার পরে ফল প্রকাশের দিন যে রকম মনে হতো, এখনও সে রকম মনে হচ্ছে। মানুষ আমাকে জিতিয়ে এনে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করবেন। আমি অনুভূতিসম্পন্ন একজন মানুষ। তাই শরীর-মনে উত্তরপাড়া শাসকদলের গড়। সিপিএম জমানার শেষ থেকেই উত্তরপাড়ার আসন তৃণমূলের দখলে।

এ বার উত্তরপাড়া কেন্দ্রে বিধায়ক, অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিকের বদলে শীর্ষণ্যকে ভোটে দাঁড় করিয়ে উত্তরপাড়া কেন্দ্র নিজেদের দখলে রাখতে চাইছে তৃণমূল। এই কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ও বিজেপির প্রার্থী প্রাক্তন সেনাকর্মী দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। কংগ্রসের হয়ে লড়ছেন জেলা সভাপতি সুব্রত মুখোপাধ্যায়। চতুর্মুখী লড়াইয়ে রাজ্যে অন্যতম হাই ভোল্টেজ আসনের তকমা পেয়েছে উত্তরপাড়া। সেখানে দাঁড়িয়ে ফল প্রকাশের আগে শীর্ষণ্যর দাবি, ‘সারা বছর পড়াশোনা করেছি। যে ছাত্র সারা বছর পড়াশোনা করে, পরীক্ষার ফল নিয়ে তার কোনও আশঙ্কা থাকে না। আমারও নেই। তাই, মানুষের রায়ে জিতে গিয়ে আমি সামনের দিকে তাকিয়ে দেখতে চাই। এখন এগিয়ে যাওয়ার পালা।’ সিপিএম প্রার্থী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘নীতি, আদর্শ ও মানুষের অধিকার নিয়ে লড়াই করতে নেমেছি। সেই লড়াইয়ে মানুষ আমার সঙ্গে আছেন। ব্যস, এটুকুই বলার।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *