রাস্তায় গড়াগড়ি খাচ্ছে ভিভি প্যাটের স্লিপ! গণনার আগের রাতে নোয়াপাড়ায় চাঞ্চল্য
গণনা (West Bengal Assembly Election 2026 Counting) শুরু হতে এখনও কয়েক ঘণ্টা বাকি। তার আগে রবিবার সন্ধ্যায় রাস্তা থেকে বিপুল ভিভি প্যাটের স্লিপ (VV Pat Slip Found On Road) উদ্ধারের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়ার সুভাষনগরে। ঘটনার বেশ কিছু ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি এই সময় অনলাইন) ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে নীলগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশও। হাজির হয়েছেন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরাও। সব মিলিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ঘটনায় উত্তর ২৪ পরগনার ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এ দিন বিকেলে দোকান খুলেছিলেন সুভাষনগরের এক ব্যবসায়ী। তিনিই প্রথমে রাস্তায় ভিভি প্যাটের স্লিপ পড়ে থাকতে দেখেন বলে অভিযোগ। দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে সেই খবর। ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারা। রাস্তার ধারে ঝোপের মধ্যে নোয়াপাড়ার সিপিএম প্রার্থী গার্গী চট্টোপাধ্যায়, তৃণমূল প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য এবং বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংয়ের নামে বেশ কিছু স্লিপও পড়ে ছিল বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
তাঁদের দাবি, এগুলি নোয়াপাড়া বিধানসভার গারুলিয়া পুরসভার ২৯ নম্বর বুথের স্লিপ। তবে এর সত্যতা জানা যায়নি এখনও। নির্বাচনী ব্যবস্থাই প্রশ্ন চিহ্নের মুখে পড়ে গিয়েছে বলে দাবি করে কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা নরেন সেন। তিনি বলেন, ‘বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো হয়ে গেল বলেই মনে হচ্ছে। এ ভাবে গণনা হলে জয়-পরাজয়ের কোনও মানে থাকে না।’
ঘটনার খবর পেয়েই সুভাষনগরে ছুটে আসেন ব্যারাকপুরের সিপিএম প্রার্থী সুমন রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘এগুলি স্ট্রং রুমে থাকার কথা। এখন রাস্তায় পড়ে আছে। এর মানে ইভিএমে কারচুপি হয়েছে।’ সিপিএম প্রার্থীকে হারানোর জন্য চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ছিলেন নোয়াপাড়ার সিপিএম প্রার্থী গার্গী চট্টোপাধ্যাও। তাঁর অভিযোগ, ‘এগুলো মক পোলের নয়। ভোটের ভিভি প্যাটের স্লিপ।’
কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় নীলগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশও। ভিভি প্যাটের স্লিপগুলি উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছেন তাঁরা। এই নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ব্যারাকপুরের সিপিএম প্রার্থী সুমন। ঘটনার খবর পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে কমিশনও। ইতিমধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনার ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কী ভাবে এই ঘটনা ঘটল তা-ও খতিয়ে দেখছে কমিশন।