তিমি
নিস্তব্ধতা নেমে এল। কেউ হাসল, কেউ ভয় পেল। একজন বলল, ‘মজা করছে সমুদ্র!’ আরেকজন ফিসফিস করে বলল, ‘অশুভ।’
আনিসুর এগিয়ে গেল। সে স্কুলটার দিকে তাকাল— ছোট ছোট বেঞ্চ, বোর্ডে সাদা প্লাস্টিকের চক। দোকানের সাইনবোর্ডে অচেনা ভাষার লেবেল। ঘরের সামনে প্লাস্টিকের হাঁড়ি, প্লাস্টিকের থালা। যেন এই দ্বীপই, কিন্তু কৃত্রিম, হালকা, ভাঙা।
কানে যেন একটা ধাতব চিঁ চিঁ শব্দ বাজতে লাগল আনিসুরের। সারা পৃথিবী থেকে ভেসে আসা বর্জ্য, তিমির পেটে জমা হওয়া প্লাস্টিক, আর এই ক্ষুদ্র গ্রাম— যেন সমুদ্র আমাদেরই ছবি বানিয়ে দেখাচ্ছে। সে ভাবল, আমরা কি ধীরে ধীরে এমনই হয়ে যাচ্ছি? আমাদের ঘর, আমাদের নদী, আমাদের খাবার— সব প্লাস্টিকের?
ভিড়ের মধ্যে কেউ কেউ ইতিমধ্যে টুকরো তুলছে। ‘দেখো, সুন্দর!’ ‘এটা নিয়ে যাব।’ আনিসুর চেঁচিয়ে উঠল, ‘না! এটা ছোঁবেন না!’ তার গলা কেঁপে উঠল। সে পঞ্চায়েত সদস্য— আজ তার কথা শোনার কথা। কিন্তু মানুষ ক্ষুধার্ত হলে কথা কম শোনে।
এক বৃদ্ধা এগিয়ে এসে বললেন, ‘বাবা, এটা লক্ষণ। সমুদ্র আমাদের দেখাচ্ছে।’ তার চোখে জল। কেউ একজন হাসল। কেউ বলল, ‘লক্ষণে পেট ভরে?’
আনিসুর সিদ্ধান্ত নিল। সে ফোন আবার ধরল। একবার, দু’বার। অবশেষে লাইন পেল। বন দফতর নয়, সাংবাদিকের নম্বর। সে কথা বলল— তিমি, প্লাস্টিকের গ্রাম, দ্বীপ, লোকজন। কথা বলতে বলতে তার গলা শক্ত হল।