জাহাঙ্গীরের ফলতায় মধুর ভাণ্ড তৈরি করেছিল সিপিএম!
এসইজেড গড়ে বাম আমলে তৈরি অর্থনৈতিক ভিত, আজ সেই ফলতাই তৃণমূল-বিজেপির লড়াইয়ের কেন্দ্র। শিল্প, জমি ও প্রভাবের রাজনীতি ঘিরে বাড়ছে উত্তাপ।
কলকাতা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা আজ আবার রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে তুমুল আলোচনার কেন্দ্রে। পুনর্নির্বাচন ঘিরে প্রশ্ন একটাই—ফলতা নিয়ে এত টানাটানি কেন? কেন এই কেন্দ্র তৃণমূলের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ, কেন বিজেপি এত জোরে ঝাঁপাচ্ছে, আর কেন এই পুরো সমীকরণের শিকড় গিয়ে মিশছে বাম আমলের শিল্পনীতিতে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলতার বর্তমান লড়াই বুঝতে গেলে ফিরে তাকাতে হবে ২০০৩ সালের দিকে, যখন বামফ্রন্ট সরকার ফলতাকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা এসইজেড হিসেবে গড়ে তোলে।
Read More:
সেই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় ফলতার অর্থনীতির চরিত্র। ২৮০ একর জমির উপর গড়ে ওঠা ফলতা এসইজেড ছিল দেশের প্রথম রাজ্য-উদ্যোগে গঠিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। শিল্প, রপ্তানি, কর্মসংস্থান—সব মিলিয়ে ফলতা হয়ে ওঠে সম্ভাবনার নতুন কেন্দ্র। একসময় ২৭১টি সংস্থা এখানে কাজ শুরু করে এবং রপ্তানির অঙ্ক পৌঁছয় প্রায় ১৫০০ কোটিতে। স্থানীয় অর্থনীতিতে টাকার প্রবাহ বাড়ে, জমির মূল্য বাড়ে, রাজনৈতিক প্রভাবের গুরুত্বও বহুগুণ বেড়ে যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই “মধুর ভাণ্ড” মূলত তৈরি করেছিল সিপিএমের শিল্পভিত্তিক পরিকাঠামো।
Read More:
কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাল্টায় ক্ষমতা। তৃণমূল জমানায় বহু কারখানা বন্ধ হয়ে গেলেও, ফলতার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব কমেনি। বরং অভিযোগ, শিল্পাঞ্চলকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন ক্ষমতার বলয়। সেই বলয়ের অন্যতম মুখ জাহাঙ্গীর। সাধারণ দর্জির পরিবারের সন্তান থেকে স্থানীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসার গল্প এখন ফলতার অলিগলিতে বহুল চর্চিত। ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে জয়ের পর তাঁর উত্থান আরও দ্রুত হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, শিল্পাঞ্চলের অর্থনীতি, জমি, প্রভাব—সব কিছুর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা।
Read More:
ফলতার বহু মহিলা শ্রমিক আজও আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটান, অথচ একই অঞ্চলে ক্ষমতা ও সম্পদের কেন্দ্রীকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বারবার। ফলে বিজেপি এখন এই কেন্দ্রকে শুধুই রাজনৈতিক আসন হিসেবে নয়, বরং তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে প্রবেশের কৌশলগত দরজা হিসেবে দেখছে।
ঐতিহাসিকভাবে ফলতা যেমন একসময় আশ্রয়স্থল ছিল, আজ তেমনই এটি রাজনৈতিক দখলদারির প্রতীক। বামফ্রন্ট শিল্পের ভিত গড়েছিল, তৃণমূল সেই ভিতের উপর প্রভাবের প্রাসাদ তুলেছে—এমন অভিযোগ বিরোধীদের। আর বিজেপি চাইছে সেই প্রাসাদে ফাটল ধরাতে। তাই ফলতার ভোট শুধু একটি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন নয়, এটি বাংলার শিল্প, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক আধিপত্যের বহুস্তরীয় লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি।