ফের সংকটে হিন্দু! ফরিদপুরে মুসলিমদের হাতে ভাঙা পড়ল মন্দির-প্রতিমা
ঢাকা: বাংলাদেশের ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের কাশিমাবাদ পূর্বপাড়া (Faridpur) এলাকায় একটি বাড়ির মন্দিরে ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, …
ঢাকা: বাংলাদেশের ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের কাশিমাবাদ পূর্বপাড়া (Faridpur) এলাকায় একটি বাড়ির মন্দিরে ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৭ এপ্রিল শনিবার রাতে রামচন্দ্র মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, একদল দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে ঢুকে বাড়ির ভেতরে থাকা মন্দিরে ভাঙচুর চালায় এবং কয়েকটি প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত করে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিতভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানা গেছে।
আরও দেখুনঃ পিংলা-দাসপুরে ভোটগণনায় চুক্তি ভিত্তিক কর্মীরা! বিস্ফোরক শুভেন্দু
ঘটনার সময় বাড়ির সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে প্রতিবেশী কয়েকজন মুসলিম বাসিন্দা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যান বলে স্থানীয়দের দাবি। এই ঘটনাটি এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেছে বলে অনেকেই মনে করছেন।
পরবর্তীতে রামচন্দ্র মণ্ডলের পরিবার ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ পাওয়ার পর এক পুলিশ আধিকারিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা যাচাই করেন বলে জানা যায়। তবে অভিযোগ জমা পড়ার পরও এখনও পর্যন্ত সেটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই বিলম্ব ঘিরে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত আইনি পদক্ষেপ না হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। অনেকেই দাবি করেছেন, প্রশাসনের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা।
অন্যদিকে, এখনও পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসনের তরফে এই বিলম্বের কারণ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে জল্পনা আরও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সংবেদনশীল ঘটনায় দ্রুত এবং স্বচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি, যাতে এলাকার মানুষের মধ্যে আস্থা বজায় থাকে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে জানা গেছে। তবে তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশের তরফে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে বলেও জানা গিয়েছে।