শ্রমিক দিবসেই ১৫ পাকিস্তানিকে বরখাস্ত করে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিল এতিহাদ
সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)-তে কর্মরত পাকিস্তানি নাগরিকদের ঘিরে সম্প্রতি একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে (Etihad Airways)। অভিযোগ উঠেছে, দেশের অন্যতম বিমান সংস্থা এতিহাদ …
সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)-তে কর্মরত পাকিস্তানি নাগরিকদের ঘিরে সম্প্রতি একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে (Etihad Airways)। অভিযোগ উঠেছে, দেশের অন্যতম বিমান সংস্থা এতিহাদ হঠাৎ করে ১৫ জন পাকিস্তানি কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে এবং তাঁদের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে মানবিকতা, শ্রমনীতি এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বরখাস্ত হওয়া কর্মীদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কারও কারও কর্মজীবন প্রায় ১৫-২০ বছরেরও বেশি। তাঁদের দাবি, কোনও পূর্ব সতর্কতা বা আনুষ্ঠানিক এইচআর নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ করে তাঁদের ডেকে পাঠানো হয় এবং সরাসরি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা হয়। সেখানেই তাঁদের জানানো হয় যে, অবিলম্বে দেশ ছাড়তে হবে। এই আচমকা সিদ্ধান্তে কর্মীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন এবং তাঁদের পরিবারগুলিও অনিশ্চয়তার মুখে।
আরও দেখুনঃ বহিরাগত কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাছেই আশ্রয় পেল ‘চোর’ স্লোগানে কোনঠাসা গর্গ
যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এতিহাদ এয়ারওয়েস বা ইউএই প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবে বিষয়টি দ্রুত আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। শ্রমিক অধিকার কর্মীরা বলছেন, যদি ঘটনাটি সত্যি হয়ে থাকে, তবে এটি আন্তর্জাতিক শ্রম আইনের পরিপন্থী এবং কর্মীদের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন হতে পারে।
অন্যদিকে, এই ঘটনার সঙ্গে কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটও জড়িয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এমন সময়েই খবর সামনে এসেছে যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগামী মাসে তাঁর ইউরোপ সফরের ফাঁকে অল্প সময়ের জন্য ইউএই সফরে যেতে পারেন। এই সম্ভাব্য সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ও ইউএই-এর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কৌশলগত সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে।
তবে পাকিস্তানি কর্মীদের বরখাস্তের ঘটনাকে সরাসরি কোনও কূটনৈতিক বার্তার সঙ্গে যুক্ত করা এখনও অনুমান নির্ভর। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, পৃথক একটি কর্পোরেট সিদ্ধান্তকে রাষ্ট্রীয় কূটনীতির সঙ্গে মেলান সবসময় সঠিক নয়। তবুও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, যেখানে কেউ কেউ এটিকে “আন্তর্জাতিক অপমান” হিসেবে তুলে ধরছেন, আবার কেউ বা তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ভবিষ্যৎ এবং তাঁদের মানবিক সহায়তা। হঠাৎ করে চাকরি হারিয়ে বিদেশের মাটিতে বিপদের মুখে পড়া এই মানুষগুলির পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের যথাযথ আইনি সহায়তা দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।