মৃত্যুর রাতে ঠিক কী ঘটেছিল সিল্ক স্মিতার সঙ্গে? সত্যিটা কি কখনও সামনে এসেছিল? - Bengali News | Unknown Story of Silk Smitha and her sad life - 24 Ghanta Bangla News
Home

মৃত্যুর রাতে ঠিক কী ঘটেছিল সিল্ক স্মিতার সঙ্গে? সত্যিটা কি কখনও সামনে এসেছিল? – Bengali News | Unknown Story of Silk Smitha and her sad life

Spread the love

সিল্ক স্মিতার সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল?

তিনি ছিলেন পর্দায় অগ্নিকন্যা, যাঁর চোখের ইশারায় কুপোকাত হতো আসমুদ্রহিমাচল। কিন্তু সেই রঙিন পর্দার আলোর নিচে জমাট বেঁধেছিল গাঢ় অন্ধকার। তিনি বিজয়লক্ষ্মী, যাঁকে দুনিয়া চেনে ‘সিল্ক স্মিতা’ নামে। আজ তাঁর জীবনের এক অজানা অধ্যায় ফিরে দেখা।

অন্ধ্রপ্রদেশের এক অজ পাড়াগাঁয়ে জন্ম বিজয়লক্ষ্মীর। দারিদ্র্যের কষাঘাতে চতুর্থ শ্রেণির পর আর স্কুলের মুখ দেখা হয়নি তাঁর। মাত্র ১৪ বছর বয়সে পরিবারের চাপে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয় এক বয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে। কিন্তু স্বামীর ঘর করা কপালে সইল না; শ্বশুরবাড়ির অবর্ণনীয় নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মাত্র ১৬ বছর বয়সে ঘর ছাড়েন তিনি। শূন্য হাতে অজানার উদ্দেশে পাড়ি জমান স্বপ্নের শহর চেন্নাইয়ে। শুরু হয় জীবন সংগ্রাম—সেখানে শ্যুটিং সেটে মেকআপের ব্রাশ ধোয়া আর টুকটাক টাচ-আপের কাজ করে কাটত তাঁর দিন।

কী ঘটেছিল সিল্ক স্মিতার সঙ্গে?

ভাগ্য ফিরল ১৯৭৯ সালে। পরিচালক অ্যান্টনি ইস্টম্যানের নজর কাড়েন তিনি। তামিল ছবি ‘বন্দীচাক্করম’-এ সুযোগ পান ‘সিল্ক’ নামক এক চরিত্রে। ছবিটি সুপারহিট হতেই বিজয়লক্ষ্মী হয়ে ওঠেন ‘সিল্ক স্মিতা’। ডিস্ট্রিবিউটররা বলতে শুরু করেন, কোনও ফ্লপ ছবি বাঁচাতে সিল্কের একটি ডান্স নম্বরই যথেষ্ট। ১৮ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তামিল, তেলুগু, কন্নড়, মালয়ালম ও হিন্দি মিলিয়ে ৪৫০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। ১৯৮৩ সালে একাই ৪৪টি ছবিতে অভিনয় করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। কমল হাসান থেকে মোহনলাল—দক্ষিণের তাবড় সব মহাতারকার পাশে তিনিই ছিলেন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

পর্দায় তিনি যতটাই উদ্দাম ছিলেন, পর্দার বাইরে ততটাই অন্তর্মুখী। খ্যাতির মধ্যগগনে থাকাকালীন তিনি এক চিকিৎসককে বিয়ে করেন। কিন্তু সেই দাম্পত্য সুখের হয়নি। অভিযোগ ওঠে, তাঁর আয়ের সমস্ত টাকা স্বামী বিভিন্ন ছবির প্রযোজনায় লাগিয়ে দেন, যা বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। নিমেষেই কোটি কোটি টাকা আর সম্পত্তি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন স্মিতা। যে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি তাঁর নাম ভাঙিয়ে শত কোটি টাকা কামিয়েছে, তারা বিপদের দিনে তাঁকে ব্রাত্য করে দেয়। ভেঙে পড়ে একের পর এক সম্পর্ক। তখন তাঁর বয়স মাত্র ৩৫।

১৯৯৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রাত। এক অদ্ভুত অস্থিরতা গ্রাস করেছিল তাঁকে। বন্ধু অনুরাধা আর অভিনেতা রবিচন্দ্রনকে বারবার ফোন করার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু সেই রাতে কারও সঙ্গেই যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। পরদিন সকালে স্কুলে সন্তানকে নামিয়ে অনুরাধা যখন স্মিতার ফ্ল্যাটে পৌঁছান, তখন সব শেষ। ঘর থেকে উদ্ধার হয় তাঁর নিথর দেহ এবং একটি হাতে লেখা চিরকুট। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, “অভিনেত্রী হওয়ার জন্য আমি কতটা পরিশ্রম করেছি তা কেবল আমিই জানি। কেউ আমাকে ভালোবাসেনি। সবাই শুধু আমাকে ব্যবহার করেছে…।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *