Explained: মাথায় ক্যামেরা বেঁধে টানা ১০ ঘণ্টা কাজ করছেন এই শ্রমিকরা! জানেন কেন? - Bengali News | Indian factory workers wearing head mounted cameras to record their movements - 24 Ghanta Bangla News
Home

Explained: মাথায় ক্যামেরা বেঁধে টানা ১০ ঘণ্টা কাজ করছেন এই শ্রমিকরা! জানেন কেন? – Bengali News | Indian factory workers wearing head mounted cameras to record their movements

Spread the love

একটি ভিডিও ঘিরে ইন্টারনেটে তুলকালাম। সেখানে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, একটি পোশাক তৈরির কারখানায় শ্রমিকরা মন দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রত্যেকের মাথায় বাঁধা গো-প্রো ক্যামেরা। প্রতিদিন এভাবেই দশ ঘন্টা করে কাজ করতে হচ্ছে ওই শ্রমিকদের। পোশাক ভাঁজ করছেন, বাক্সে ভরছেন। এক মুহূর্তও কাজ ছেড়ে উঠতে পারছেন না। কারণ, তাঁদের একটা টার্গেট বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

কী সেই টার্গেট?

৬০ সেকেন্ডের মধ্যে প্রতিটি বাক্সে কাপড় ভাঁজ করে ঢোকাতে হবে। ভুলচুক চলবে না। কারণ এই পদ্ধতিটি রেকর্ড করা হচ্ছে। এরমকম হাজার হাজার ভিডিও একসঙ্গে প্রতিদিন রেকর্ড করে পাঠানো হবে আমেরিকাতে। যেখানে একটি রোবট তৈরির সংস্থা এই ভিডিও দেখিয়ে রোবটদের প্রশিক্ষণ দেবে। শুধু জামাকাপড় নয়, একইভাবে কাগজপত্র, বাসন-গুছিয়ে বাক্সে ভরার ভিডিও-ও রেকর্ড হচ্ছে রোবটদের প্রশিক্ষণের জন্য।

টেসলা থেকে শুরু করে গুগল-পারপ্লেক্সিটিAI– প্রায় সব বহুজাতিক সংস্থায় প্রতিদিনের কাজে মানুষের অংশগ্রহণ কমিয়ে, রোবটের ব্যবহার বাড়ানোর জোর দিয়েছে। এই ধরণের রোবটদের বলা হয় ‘হিউম্যানয়েড’। রান্না, পোশাক গুছিয়ে রাখা, এমনকী কীভাবে জামাকাপড় ধুলে বেশি পরিষ্কার হবে– সেটাও প্রতিমুহূর্তে সেখান হচ্ছে এই রোবটদের। সংগ্রহ করা হচ্ছে ‘ডেটা-সেট্স’। তবে আমেরিকা বা ইউরোপের মতো দেশে এই ধরণের ডেটা সংগ্রহ করা খরচসাপেক্ষ। অতএব? ভারতের মতো দেশ থেকে সংগ্রহ করো যেখানে শ্রমিকদের দিয়ে অনেক সস্তায় কাজ করিয়ে নেওয়া যায়। রীতিমতো মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ভারতে ডেটা ফার্মগুলিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই তথ্য সংগ্রহ করতে। গ্লোবাল রোবোটিক মার্কেট এবছর ৮৮ বিলিয়ন ডলারের হলেও, ২০৩১-র মধ্যে বাজার ২১৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে- মনে করা হচ্ছে। শুধু এবছরই রোবট প্রশিক্ষণে ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু ভারতের বিভিন্ন কারখানায় যে শ্রমিকরা এভাবে মাথায় ক্যামেরা বেঁধে কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁদের মজুরি কিন্তু বাড়ানো হয়নি বলে অভিযোগ।

জানলে অবাক হবেন, অনেক ক্ষেত্রেই এই জানেনই না, তাঁরা কেন এই কাজ করেছন? ভবিষ্যতে যে তাঁদের কাজ থেকে ছাড়িয়ে সেখানে রোবট নিয়োগ করা হবে, সেটা না জেনেই এই গরিব মানুষগুলো না থেমে টানা ১০ ঘণ্টা করে কাজ করে যাচ্ছেন। কারণ, টার্গেট। ৬০ সেকেন্ডে পুরো কাজটা শেষ করতে হবে যে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *