TCS, Infosys, WIPRO, HCL-র ১৩ লাখ কর্মীর চাকরি ঝুঁকির মুখে! হোয়াইট কলার জব আর থাকবে না? - Bengali News | TCS, Infosys, WIPRO, HCL 13 Lakh Employees Job at Risk, AI Can away take jobs - 24 Ghanta Bangla News
Home

TCS, Infosys, WIPRO, HCL-র ১৩ লাখ কর্মীর চাকরি ঝুঁকির মুখে! হোয়াইট কলার জব আর থাকবে না? – Bengali News | TCS, Infosys, WIPRO, HCL 13 Lakh Employees Job at Risk, AI Can away take jobs

Spread the love

নয়া দিল্লি: লাখ টাকার মাইনে, হাই প্রোফাইল চাকরির চমক। গভীর রাত পর্যন্ত ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে চোখ এঁটে, সারাদিন প্রজেক্ট আর ক্লায়েন্টদের নিয়ে আলোচনা। বুঝতেই পারছেন যে হোয়াইট কলার জবের কথা বলছি। অনেকেই উচু চোখে দেখেন এই ধরনের চাকরিকে। জীবনের লক্ষ্যই থাকে, হোয়াইট কলার চাকরি করব। তবে সেই স্বপ্ন ভাঙতে চলেছে। তার কারণ হোয়াইট কলার জব বা চাকরি এখন পড়েছে অস্তিত্ব সঙ্কটে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এসে কেড়ে নিচ্ছে একের পর এক চাকরি। মাইক্রোসফট এআই-র প্রধান মুস্তাফা সুলেমান দাবি করেছেন যে আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে বেশিরভাগ হোয়াইট কলার চাকরিই কেড়ে নেবে এআই। HSBC-এর সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন আইটি সেক্টরে কর্মরতদের চিন্তা-উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সত্য়িই কি আর এই চাকরিগুলো থাকবে না?

ভারতের সবথেকে বড় চারটি আইটি পরিষেবা সংস্থা হল ইনফোসিস, টিসিএস, উইপ্রো এবং এইচসিএল টেক। এই চার সংস্থায় মোট ১.৩ মিলিয়ন বা ১৩ লক্ষেরও বেশি মানুষ চাকরি করেন। ইনফোসিসের মোট কর্মী সংখ্যা প্রায় ৩ লক্ষ ৩৭ হাজার, টিসিএসের ৫ লক্ষ ৮২ হাজার, উইপ্রোর ২ লক্ষ ৪২ হাজার এবং এইচসিএল টেক ২ লক্ষ ২৬ হাজারেরও বেশি। এদের একটি  বড় অংশ রিপোর্টিং, ডকুমেন্টেশন, ডেটা অ্যানালাইসিস, টেস্ট এবং  প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের মতো কাজের সঙ্গে জড়িত। তবে এই সমস্ত চাকরিতে ভাগ বসাচ্ছে এআই।

এদিকে, এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিক তার এন্টারপ্রাইজ এআই টুলগুলিতে একটি নতুন অটোমেশন স্তর যুক্ত করেছে। এই টুলগুলি কেবল পরামর্শ বা সহায়তা করে, এমনটা নয়। পুরো বিজনেস ওয়ার্ক-ফ্লো বা ব্যবসায়িক কর্মপ্রবাহ পরিচালনা করতে পারে এই AI টুল।

এই AI টুল যেমন আইনি নথি পর্যালোচনা করতে পারে, তেমনই কোনও কিছুর বিক্রয়ের পরিকল্পনা, এমনকী SQL রিপোর্টিং এবং ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশনও করতে পারে। সহজ কথায়, বিভিন্ন সফটওয়্যার নিয়ে একাধিক কর্মী মিলে যে কাজ করা হত, তা এখন একটি এআই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে করা যেতে পারে। এতে কোম্পানির খরচ কমবে অনেক। কমবে কর্মীদের প্রয়োজনীয়তাও।

মাইক্রোসফটের অন্যতম শীর্ষকর্তা মুস্তাফা সুলেমানের বক্তব্য আসলে সতর্কবার্তা। কারণ এটি মাইক্রোসফটের বৃহত্তর পরিকল্পনাকেই তুলে ধরেছে। কোম্পানি ইতিমধ্যেই “পেশাদার-গ্রেড AGI” নিয়ে কাজ করছে, যা প্রায় যেকোনও পেশাদার কম্পিউটার কাজ পরিচালনা করতে সক্ষম AI।

মাইক্রোসফট ধীরে ধীরে ওপেনএআই-এর উপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব এআই মডেল তৈরি করছে। এর লক্ষ্য স্পষ্ট, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকদের তাদের এআই সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করা, যাতে ভবিষ্যতে কোম্পানিগুলি সরাসরি মানুষের পরিবর্তে এআই-এর উপর নির্ভর করতে পারে।

এইচএসবিসি রিপোর্ট-

এইচএসবিসির গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট রিসার্চ রিপোর্টেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। রিপোর্ট অনুসারে, এআই সম্পূর্ণরূপে সফটওয়্যার প্রতিস্থাপন করবে না, বরং সফটওয়্যারের মধ্যে “এম্বেডেড” কাজ করবে। এর অর্থ হল, এআই (AI) হবে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী মস্তিষ্ক, এবং সফটওয়্যার হবে বাস্তবায়ন করার যন্ত্র। অনেক নিয়মিত কাজকে স্বয়ংক্রিয় হয়ে যাবে। তবে, যেসব চাকরিতে মানুষের বোধগম্যতা, সৃজনশীল চিন্তাভাবনা, ক্লায়েন্ট সম্পর্ক এবং জটিল সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন হয়, সেখানে এআই (AI) এখনও মানুষের স্থান নিতে পারে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *