Nandigram: ‘কাকা-ভাইপো’-র দ্বৈরথে সরগরম নন্দীগ্রামের রাজনীতি – Bengali News | Confrontation between TMC and BJP leader in Nandigram
শেখ কাজেহার (বাঁদিকে), প্রলয় পাল (ডানদিকে)Image Credit: TV9 Bangla
নন্দীগ্রাম: একসময় তাঁরা একই দল করতেন। নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক মহলে ‘কাকা-ভাইপো’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আজ দু’জনের রাজনৈতিক পথ আলাদা। স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বও রয়েছে। কিন্তু, বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘কাকা-ভাইপোর’ বাকযুদ্ধে সরগরম হয়ে উঠেছে শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম।
এই বাকযুদ্ধের দুই মূল চরিত্র নন্দীগ্রাম ২ ব্লক তৃণমূলের নেতা শেখ কাজেহার এবং বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি প্রলয় পাল। একসময় তাঁরা ২ জনেই তৃণমূল করতেন। সবাই তাঁদের কাকা-ভাইপো বলতেন। তাঁদের বাকযুদ্ধই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
ঘটনার শুরু ‘ভাইপো’ প্রলয়ের এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে ঘিরে। সম্প্রতি ‘কাকা’ কাজেহারকে বিঁধতে গিয়ে তিনি পুরোনো কাসুন্দি ঘেঁটে দাবি করেছেন, বছর দশেক আগে নাকি ‘কাকা’ কাজেহার তৃণমূলকে ওড়াতে ৭ হাজার গুলি চেয়েছিলেন। প্রলয় বলেন, “ও কাজেহার কাকা। তুমি তো রাতারাতি হিরো হয়ে গিয়েছ। কলকাতা থেকে তৃণমূলের নেতারা এসে তোমাকে নিয়ে মিডিয়ার সামনে লেকচার দিচ্ছে। তুমি দিচ্ছ। ও কাকা, ২০১৪-১৫ সালের কথা মনে আছে। আমার কাছে এসে বলেছিল, সাত হাজার গুলি দাও। তৃণমূলকে ভেঙে দেব। গুঁড়িয়ে দেব। আমি ভেবেছিলাম, তুমি ২টা গুলি রেখে বাকিগুলো বিক্রি করে খেয়ে নেবে। ২টা গুলি আমাকে করার জন্য রাখবে। তবে তুমি কথা রেখেছ। তৃণমূলের হাতে ভাঙা হ্যারিকেন ধরিয়ে দিয়েছ। এই গুণটা তোমার আছে। পৃথিবীর মহা মূর্খ ছাড়া তোমাকে কেউ বিশ্বাস করে না। ভোটটা আসতে দেরি আছে। ভোটটা আসুক। আবার গুঁজে দেব। কাজটা করে দিও। অত লেকচার এখন দিও না। খারাপ লাগে। যতই হোক, সম্পর্কটা তো আছে।”
‘ভাইপো’ প্রলয়ের বাউন্সারে পাল্টা ‘হেলিকপ্টার শট’ মেরেছেন ‘কাকা’ কাজেহারও। তিনি বলেন, “বাবা প্রলয়। আপনার বক্তব্য শুনে খুব খুশি হয়েছি। কবে গিয়েছিলাম গুলি চাইতে? কত বোমা, বন্দুক রেখেছ? তার মানে বোমা, বন্দুক সব আছে। ডিলারশিপ রয়েছে তোমার। তুমি তো ভদ্রবাড়ির ছেলে বাবা। তাহলে কত কোটি টাকার বোমা, বন্দুক রেখেছ? এটা কি বাজার গরম করার জন্য কর? ছাব্বিশে ধুয়ে মুছে সব সাফ করে দেব। আপনার ঠিকানা হবে শান্তিকুঞ্জে (শুভেন্দুর বাড়ি)।”