Jalpaiguri: তৃণমূল নয়, আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে – Bengali News | Corruption allegations in housing scheme against BJP, not Trinamool
জলপাইগুড়ি: তৃণমূল নয় এবার বিজেপি পরিচালিত গ্রাম-পঞ্চায়েতে দুর্নীতির অভিযোগ। যা নিয়ে শোরগোল রাজনৈতিক মহলে। বিজেপি করলে যখন ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে একই পরিবার পাচ্ছে একাধিক ঘর। আর ঠিক তখনই লিস্টে নাম থাকার পরেও নাম কেটে দেওয়ার কারণে সরকারি ঘর না পেয়ে ঋণ করে করা অর্ধসমাপ্ত ঘরে পশুকে নিয়ে সহাবস্থান করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আর এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
বাংলার আবাস যোজনা নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। ভোটের মুখে অঞ্চল গুলিতে টাঙানো হয়েছে আবাস প্রাপকদের নামের তালিকা। অভিযোগ, ওই তালিকা থেকে অনেকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ গত কয়েকবছর ধরে একাধিকবার তাদের বাড়িতে গিয়েছেন সরকারি কর্মীরা। বাড়ি পাওয়ার জন্য যা কিছু করার সবকিছু হয়ে যাওয়ার পর নতুন তালিকা থেকে তাদের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বাহাদুর গ্রাম পঞ্চায়েত। বিজেপি পরিচালিত এই গ্রামপঞ্চায়েত থেকে ১০০৩ জনের নাম আবাস প্রাপকের তালিকায় ছিল। কিন্তু সদ্য প্রকাশিত আবাস তালিকায় নাম এসেছে ৯৬০ জনের। ৪৩ জনের নাম অনুপযুক্ত বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, এই ৪৩ জনের বেশিরভাগের বাড়ি দলমার বেড়ার। তাও আবার লড়ঝরে। কালবৈশাখী ঝড় আসলেই ভেঙে পড়বে। এই অবস্থায় ঘর না পেয়ে চৈত্র, বৈশাখ মাসে ঝড় উঠলে কি হবে তা নিয়ে প্রমাদ গুনছেন তারা।
কী কী অভিযোগ?
- বাহাদুর গ্রামপঞ্চায়েতের নাগ পাড়ার বাসিন্দা তপন রায়। প্রায় ৪ বছর আগে তিনি ঘরের আবেদন করেছিলেন। গতবছর কালবৈশাখী ঝরে তার লড়ঝরে বাড়ি ভেঙে পড়ে। পুরো পরিবার ঘর চাপা পড়ে। এরপর ঋণ নিয়ে একটি অর্ধসমাপ্ত পাকা ঘর করেন। সেই ঘরে তার নাবালক ছেলে এবং বাড়ির ছাগল থাকে। এরপর তার বাড়িতে আসেন সরকারি কর্মীরা। সম্প্রতি, অঞ্চল অফিস থেকে আবাস তালিকায় নাম থাকার খবর আসে। কিন্তু গিয়ে জানতে পারেন তার নাম নেই। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তাঁর।
- বাহাদুর অঞ্চলের বাসিন্দা কালু রায়। তাঁরও দলমার বেড়ার ঘর। তিনি ১৭ সাল থেকে আবাস যোজনার ঘর পাওয়ার জন্য আবেদন করে আসছেন। কিন্তু আজও ঘর পাননি।
- এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
স্থানীয় বাসিন্দা তপন রায়,কালু রায় বলেন, “আবাস তালিকায় আমার নাম ছিল। কিন্তু পরে তা কেটে দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের গ্রামে কেউ কেউ দুটো ঘর পেয়েছে। এটা কি ঠিক?” স্থানীয় বাসিন্দা অন্তোস রায় তিনি বিজেপি কর্মী।ঘরের আবেদন করে ঘর পেয়েছেন। এজন্য প্রধানকে ধন্যবাদ জানিয়ে আরও বলেন আগেও তার পরিবারে একটি ঘর পেয়েছে।”
তৃণমূলের জেলা কমিটির সদস্য পল হাসান প্রধান বলেন, “বিজেপি পরিচালিত বাহাদুর গ্রাম পঞ্চায়েত দুর্নীতিগ্রস্ত।মুখ্যমন্ত্রী দলমত নির্বিশেষে গরীব মানুষের জন্য ঘরের টাকা পাঠাচ্ছে। কিন্তু বিজেপির পক্ষ থেকে বেছে বেছে তৃণমূল কর্মীদের নাম আবাস তালিকা থেকে কেটে দিচ্ছে। অথচ বিজেপি করলে একই পরিবার একাধিক ঘর পেয়ে যাচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এদের মুখোশ খুলে দিতে আন্দোলনে নামব।”
বিজেপির সদর মন্ডলের সহ সভাপতি দেবাশীষ রায় প্রধান বলেন, “তৃণমূলের অভিযোগ ভিত্তিহীন। কারণ এই তালিকা প্রধান করেন না। করেন অঞ্চল বা বিডিও অফিসের কর্মীরা। তারা তৃণমূল করে। তারাই নাম কেটে দেয়। বিজেপির ক্ষমতা নেই ওই তালিকায় পেন চালানোর।”
ঘটনায় তৃণমূল ও বিজেপি উভয়কেই দুষেছেন সিপিএমের জেলা সম্পাদক পিযুশ মিশ্র। তিনি বলেন, “এরা মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। আসলে কে ঘর পাবে তার একটা প্রায়োরিটি লিস্ট থাকা দরকার। তা হলে সমস্যা হবে না। কিন্তু এরা তা না করে টাকা খাওয়ার জন্য সব এলোমেলো করে দিয়েছে। আমরা আগে নিজেরা অর্থ সংগ্রহ করে কাউকে বাড়ি কাউকে বিদ্যুৎ সংযোগ করে দিয়েছি। আমরা এইসব পরিবার গুলির পাশে অবশ্যই সাধ্য মতো থাকব।”